করোনায় লকডাউনে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশে দেশে জারি করা লকডাউনে গাড়ি চলাচল ও কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিশ^জুড়ে বায়ুদূষণ অভূতপূর্ব মাত্রায় কমেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশে^র যে বড় শহরগুলো বায়ুদূষণের তালিকায় নিচের অবস্থানে ছিল, তিন সপ্তাহের লকডাউনে সেসব শহরের অবস্থা অনেকটা ভালো দেখা গেছে। কোনো কোনোটির প্রতি ঘনমিটার বাতাসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় লকডাউন দিয়েছে এমন ১০টি বড় শহর নিয়ে বৈশি^ক বায়ুমানের তথ্য রাখা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এ গবেষণাটি করেছে।

আইকিউএয়ারের গবেষকরা শহরগুলোর বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর বস্তুকণা বা পিএম ২ দশমিক ৫ এর মাত্রার তুলনা করেন। বাতাসে ভাসমান এ বস্তুকণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পিপিএম-পার্টস পার মিলিয়ন) এককে। সাধারণত বস্তুকণা ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার ব্যাস শ্রেণিতে ভাগ করে তার পরিমাপের ভিত্তিতে গবেষকরা ঝুঁকি নিরূপণ করেন। এই সূ² বস্তুকণা নিঃশ^াসের সঙ্গে মানুষের ফুসফুস ও সেখান থেকে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও রক্তে প্রবাহে পৌঁছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। আইকিউএয়ারের গবেষকরা দেখেছেন, লকডাউনের কারণে ১০টি শহরের মধ্যে সাতটিতেই বাতাসে বায়ুমানের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। যেসব শহর আগে পিএম ২ দশমিক ৫ এর উচ্চ মাত্রার দূষণ দেখেছে, সেসব শহরেই বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ গবেষণায় থাকা শহরগুলোর মধ্যে ভারতের নয়াদিল্লি, মুম্বাই, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল, চীনের উহান, যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ইতালির রোম ও স্পেনের মাদ্রিদ আছে বলে জানায় সিএনএন।

আইকিউএয়ারের গবেষকদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয় ‘ধরিত্রী দিবসের’ ৫০তম বার্ষিকীতে। এ বছর দিবসটিতে জলবায়ু পরিবর্তনরোধে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করারই লক্ষ্য ছিল। বায়ুদূষণ বিশ্বজুড়েই জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। প্রতি বছর এ দূষণের কারণে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে বলে জানায় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা। গবেষকরা বলছেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব থামলে বিশ^জুড়ে অর্থনীতির চাকা ফের সচল হলে বায়ুদূষণের মাত্রা আবার বেড়ে যাবে বলেই আশঙ্কা করছেন তারা।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj