টেলিফোন কথন > মানবিক পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

সেলিনা হোসেন

এই সংকট সময়কে আমি বন্দি জীবন মনে করি না। পড়ছি, লিখছি, রান্না করছি, পরিবারকে কোয়ালিটি সময় দিতে পারছি। এই দীর্ঘ সময়কে ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করছি। নেতিবাচকভাবে দেখলে বন্দি জীবন ভাবলে অসুস্থ হয়ে যাবো। আজকের বিশে^র অবস্থা যেখানে দাঁড়িয়েছে এটার জন্য আপনি আমি সবাই দায়ী। কেউ আমরা দায় এড়াতে পারব না। বরং এই দুঃসময় অতিক্রম করার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সরকারের দেওয়া নিয়মগুলো পালন করতে হবে। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন আরো বলেন, গত বছর ‘বধ্যভূমিতে বসন্ত বাতাস’ নামে একটি উপন্যাস শুরু করেছিলাম। এটি এখন শেষ করার চেষ্টা করছি। আগামী বছর অমর একুশে বইমেলাতে উপন্যাসটি প্রকাশের ইচ্ছা রাখছি। দীর্ঘদিন ধরে উপন্যাসটির রসদ জুগিয়েছি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান থেকে। ছোটদের জন্য একটি উপন্যাস লিখছি। এবারের ঈদে ছোটদের একটি কাগজে এটি ছাপা হবে। তবে নাম এখনো ঠিক হয়নি। টাঙ্গাইলের সখীপুর বনে ফেলে যাওয়া মাকে নিয়ে উপন্যাসের আখ্যান। গণমাধ্যমের খবরে আমরা জেনেছি, তার সন্তানেরা গভীর বনে এই বলে রেখে যায় ; মা, তুমি এই বনে এক রাত থাকো। কাল এসে তোমাকে নিয়ে যাব’- এ কথা বলে ৫০ বছর বয়সী মাকে শাল-গজারির বনে ফেলে যান তাঁর সন্তানেরা। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে সন্তানেরা এমনটা করেন। পরে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলা প্রশাসন তাঁকে বন থেকে উদ্ধার করে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কঠিনভাবে বিপর্যস্ত করেছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনের জীবনে গভীরভাবে পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও নজিরবিহীন চাপে পড়েছে। এ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে কিছু ঘটনায় মানুষ আঁতকে উঠেছেন। এখন দরকার সবচেয়ে বেশি মানবিক হওয়ার। এ সময়ে মানুষের মনে সাহস জোগাতে সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগানোর কথা বলেছেন তিনি। আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি খাতে জোর দিতে হবে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বিশ্বজুড়ে জারি করা লকডাউনের জেরেই অনভিপ্রেত খাদ্যের সংকট তৈরি হতে পারে। খাবারের অভাব এখন বোঝা না গেলেও লকডাউনের পর খাদ্যের প্রকট অভাব দেখা দিতে পারে। দেখা দিতে পারে দুর্ভিক্ষ। বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশের জন্য এই সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। তাই আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে আমাদের। আমাদের দেশে প্রচুর আবাদি রয়েছে। পরিকল্পনা করে জমিতে শস্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। অবশ্যই সরকারকে এজন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

শুরুতে বলছিলাম এই পৃথিবীতে এখন যা হচ্ছে তা মানুষের কর্মফল। আজ বিশ্বের দিকে তাকালে মনে হয় বিশ্ব একটি মানবিক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছে। পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই মানুষকে মানবিক হতে হবে। মানুষ যদি মানবিক না হয়, তাহলে মানুষের পৃথিবী কখনো সুন্দর শান্তিময় হবে না। এই পৃথিবী আমাদের, আমাদের পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। চলতি অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ভীতিকর সময় কেটে ভালো সময় আসুক। একটি সুন্দর, মানবিক পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি।

:: সাহিত্য ডেস্ক

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj