জন্মদিন > সুজন বড়–য়ার কবিতা চিত্ররূপময়

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

রাশেদ রউফ

সুজন বড়–য়া বাংলাদেশের কিশোর কবিতাঙ্গনে এক উজ্জ্বল ও অনিবার্য নাম। যে ক’জন লেখক বাংলা কিশোর কবিতাচর্চার ধারাটিকে আরো বেগবান ও সুসংহত করার লক্ষ্যে নিরন্তর শ্রম দিয়ে চলেছেন এবং স্ব-স্ব কাব্যপ্রতিভায় বাংলাদেশের কিশোর কবিতাকে আধুনিক বাংলা কবিতার কাছাকাছি নিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কিশোর কবিতা রচনায় তিনি যেমন আন্তরিক, তেমনি পরিশ্রমী। ফলে সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম লিখেও তিনি পেয়েছেন অধিকতর পাঠকপ্রিয়তা। বিষয়-বৈচিত্র্যে, ছন্দ-নৈপুণ্যে, শব্দ-কুশলতায়, উপমায় কিংবা চিত্রকল্পে তাঁর স্বাতন্ত্র্য অত্যন্ত স্পষ্ট। শব্দের পর শব্দ গেঁথে তিনি তৈরি করেন অপূর্ব পঙ্ক্তিমালা। তাঁর সব কবিতাই চিত্ররূপময়। কবিতায় ছবি আঁকার ক্ষেত্রে তিনি একজন দক্ষ শিল্পী। এসব ছবিতে তিনি প্রকাশ করেন তাঁর মনের সমস্ত আকুলতা ও কল্পনা। ফলে তাঁর কবিতা হয়ে ওঠে আশ্চর্য আবেগময় স্বপ্নমাখা। পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের ভেতরে সৃষ্টি হয় অনন্য ভাবমণ্ডল, যেখানে একটি আদিম অপূর্বতা আছে, আছে অপরূপ আচ্ছন্নতা। তাঁর কবিতাগুলোর মধ্যে যেমন ছড়িয়ে আছে সুরের অনন্যতা, তেমনি আছে বক্তব্যের অখণ্ডতা। তাই প্রতিটি পঙ্ক্তির ভেতর দিয়ে এমন একটা স্বর বুকে এসে লাগে, যা এক কথায় অপূর্ব। সুজন বড়–য়ার এ পর্যন্ত অনেকগুলো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘বাড়ির সঙ্গে আড়ি’ সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম নির্ভেজাল কিশোর কাব্যগ্রন্থ। কেননা এর আগে প্রকাশিত প্রায় সবকটি কিশোর কাব্য গ্রন্থে ‘ছড়াকেও’ স্থান দেওয়া হয়েছিল গুরুত্বের সঙ্গে। দেশের সর্বাধিক কিশোর কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সুজন বড়–য়া ‘বাড়ির সঙ্গে আড়ি’ ও ‘আজ সারাদিন আমরা স্বাধীন’ গ্রন্থ দু’টোর জন্য অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ‘বুকের ভেতর শাপলা ফোটে’র জন্য এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার এবং ‘ভোর ডাকা পাখি’র জন্য অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। অতিসম্প্রতি শিশুসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার।

সুজন বড়–য়া শিশুদের কবি। কিশোরদের কবি। তাঁর সমস্ত কবিতায় ফুটে ওঠে কৈশোরের প্রতি মমত্ববোধ। শিশু মনস্তত্ত্ব সহজেই আয়ত্ত করে নিয়েছেন সুজন বড়–য়া। তাই তিনি লিখতে পেরেছেন ‘বাধ্য হতে চাই’, ‘পেতাম যদি পক্ষিরাজ’, ‘দিদিকে লেখা চিঠি’, ‘রাতের শেষে’, ‘দুষ্টু বলেই’, ‘কোনো একদিন’, ‘মনই শুধু জানে’ প্রভৃতি কবিতা। একটি শিশু বা কিশোরের মনের কথাগুলো অপূর্বভাবে ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিটি কবিতায় নিজের অনুভূতি ও কল্পনাকে প্রকাশ করেন, যেগুলো ভাবপ্রসূত। উপমা, বিশেষণ ও চিত্রকল্পে তিনি যেমন স্বতন্ত্র, তেমনি অভিনব। তাঁর কবিতায় আলোর খেলা আছে, সুরের মোহ আছে, স্বপ্ন আছে, আছে নতুনত্ব। ‘দেশপ্রেম’ সুজন বড়–য়ার কবিতার অন্যতম দিক। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা নিয়ে বহু কবিতা তিনি তৈরি করেছেন। প্রতিটি কবিতাই উজ্জ্বল, অসাধারণ ও অকল্পনীয়। তাঁর কবিতায় সারল্য আছে, অস্পষ্টতা নেই; বক্তব্য আছে, উপদেশ নেই; সৌন্দর্য আছে, কৃত্রিমতা নেই। তাঁর অভিনব ও চিত্তহারী কবিতাগুলো তাঁকে এনে দিয়েছে খ্যাতি, পরিয়ে দিয়েছে পুষ্পাঞ্জলি। তাঁর কবিতা পড়ে আমরা আন্দোলিত হই, উচ্ছ¡সিত হই এবং কখনো কখনো হয়ে পড়ি স্বপ্নাচ্ছন্ন। তিনি ছোটদের স্বপ্নের কবি, আমাদের প্রিয় কবি। গত ১৮ এপ্রিল ছিল কবি সুজন বড়–য়ার জন্মদিন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা কবিকে।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj