কিশোর অপরাধ : এ সামাজিক ব্যাধি রুখতে হবে

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

দেশের এই দুঃসময়ে কিশোর অপরাধ উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। করোনাকালেও রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে অপরাধ করছে। পেশাদার সন্ত্রাসী-গডফাদার চক্রের মতো করে কিশোরদেরও রয়েছে গ্যাং। একেক গ্যাং একেক এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কিশোর সন্ত্রাস নতুন একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেওভোগ আদর্শনগরে শরিফ হোসেন (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। এর আগে গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্যাংয়ের সঙ্গে মারামারিসহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাঁকা পরিবেশ কিশোর অপরাধীদের জন্য আদর্শ জায়গা। এজন্য লকডাউনের মধ্যেও নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চুরি-ছিনতাইয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে কিশোর অপরাধীরা। তাদের প্রতিহত করতে আরো কঠোর নজরদারি দরকার। পুলিশের তথ্য মতেই গত ১০ বছরে রাজধানীর আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই কিশোর অপরাধীদের হাতে ঘটেছে। এটি খুবই ভয়ঙ্কর তথ্য। এদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে খুনের ঘটনাও। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে কিংবা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসেবে কাজ করছে অনেক কিশোর। বিভিন্ন মহল্লায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি থেকে শুরু করে ছিনতাই-রাহাজানির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে এরা। প্রশ্ন হচ্ছে, যে বয়সে নিজেকে গড়ে তোলা ও পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার কথা, সে বয়সে ছেলেমেয়েদের এমন অপরাধে জড়ানোর কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিথিল পারিবারিক বন্ধন, মা-বাবার সন্তানকে সময় না দেয়া, সামাজিক অবক্ষয়, স্বল্প বয়সে স্মার্টফোনসহ উন্নত প্রযুক্তি উপকরণের নাগাল পাওয়া, সঙ্গ দোষ ইত্যাদি কারণে কিশোরদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়া কিশোরদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা দেয়া, যৌক্তিকতা বিচার না করেই সব আবদার পূরণ করা এবং সন্তান কী করছে সে বিষয় পর্যবেক্ষণ না করায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন। কিশোরদের বেপথু হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে এবং কেউ তাদের অসৎ কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। এ জন্য সবার আগে পরিবার তথা মা-বাবাকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানরা কী করে, কার সঙ্গে সময় কাটায়- এসব খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের অযৌক্তিক আবদার পূরণ করার আগে ভাবতে হবে। গোটা সমাজেই শিশু-কিশোরদের সুস্থ-সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্কুল কারিকুলামের বাইরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা এবং যুক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। কিশোর অপরাধ রুখতে ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। যারা ইতোমধ্যে অপরাধ চক্রে জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্য উপযুক্ত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj