ভিড় কমছে না বাজারে

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে অনেকেই পেটের দায়ে পেশা বদলে সবজির ব্যবসায় নেমেছেন। কারওয়ানবাজার কিংবা যাত্রাবাড়ীর পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে ভ্যানে ভরে মহল্লায় মহল্লায় বিক্রি করছেন তারা। ফলে নগরীর সব মহল্লার গলিতেই ভ্যানে সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এরপরও সবজি কিনতে অনেকেই বাজারে ভিড় করছেন। এতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছেই।

বাজারে ভিড় করার অজুহাত হিসেবে ক্রেতারা বলছেন, মহল্লার গলির ভ্যানে যে সবজি পাওয়া যাচ্ছে তার মান বাজারের সবজির তুলনায় খারাপ। কিন্তু দাম বেশি। আবার ভ্যানে সব ধরনের সবজি পাওয়া যায় না। তা ছাড়া ভালো মাছ কিনতে হলে বাজারে আসতেই হয়।

গতকাল বুধবার রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ ও সবজি উভয় ধরনের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। সামাজিক দূরত্বের লেশমাত্র নেই। একজন আরেকজনের ঘাড়ে নিঃশ^াস ফেলে কেনাকাটায় ব্যস্ত। অথচ রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগরের প্রতিটি মহল্লার গলিতে গলিতে ভ্যানে সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

হাজীপাড়া বৌবাজারে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, আমি প্রতিদিন বাজার করতে আসি না। সপ্তাহে একদিন আসি। বাসার সবজি ফুরিয়ে যাওয়ায় বাজারে এসেছি। এক সপ্তাহের সবজি কিনে নিয়ে যাব। মহল্লার ভ্যান থেকে সবজি না কিনে বাজারে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভ্যানের সবজি সব সময় ভালো হয় না। তা ছাড়া দামও একটু বেশি। এ কারণে বাজারে আসি। শায়লা আক্তার, রুবিনা খানম, মমিনুলও একই কথা বলেন।

এভাবে বাজারে আসেন, করোনা সংক্রমণের ভয় করে না? এমন প্রশ্নে রুবিনা বলেন, ভয় করে না তা বলব না। তবে আমাদের এদিকে এখনো কারো করোনা সংক্রমণের খবর শুনিনি। তা ছাড়া সবজি পাওয়া গেলেও মহল্লায় কিন্তু ভালো মাছ তেমন পাওয়া যায় না। মাছ কিনতে বাজারে আসতেই হয়।

এদিকে বাজারের সবজির দোকানের চেয়ে মাছের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা যায়। অনেকেরই মুখে মাস্ক নেই। আবার কেউ কেউ মাস্ক পরলেও তা মুখ থেকে নামিয়ে রেখেছেন। ক্রেতাদের এমন আচরণের বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী লিটন বলেন, আমরা যতই ফাঁকা হয়ে দাঁড়াতে বলি কেউ কথা শোনে না। সবাই একসঙ্গে এসে দাঁড়ায়। মাঝে মধ্যে পুলিশ এসে দাবড়ানি দিলে লোকজন কিছুটা সচেতন হয়, সরে দাঁড়ায়। অল্প কিছু সময় পরে আবার একই চিত্র। গা ঘেষে দাঁড়ায়। এতে আমরাও ভয়ে থাকি। কিন্তু পেটের দায়ে মাছ বিক্রি করতে আসি। মাছ বিক্রি না করলে পরিবারের মুখে খাবার জুটবে না।

রামপুরা জামতলার ভ্যান থেকে সবজি কেনা মমিনুল বলেন, যে বাজারে যাই সেখানেই প্রচণ্ড ভিড়। এই ভিড়ে যেতে আমার ভয় লাগে। তাই দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভ্যান থেকে সবজি কিনছি। ভ্যানওয়ালারা দাম একটু বেশিই নেয়, তারপরও বাসার কাছ থেকে তো সবজি কিনতে পারি।

ভ্যানে সবজি বিক্রি করা মিলন নামের বিক্রেতা বলেন, আগে আমি মালামাল আনা-নেয়ার জন্য ভ্যান চালাতাম। করোনার কারণে এখন ফার্নিচারের দোকান বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে লোকজন বাসা পাল্টায়ও কম। পেটের দায়েই সবজি ব্যবসায় নেমেছি। কারওয়ানবাজার থেকে সবজি কিনে এনে মহল্লায় মহল্লায় সবজি বিক্রি করি। সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করি, যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবার নিয়ে কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে আছি। সত্যি কথা বলতে, করোনার কারণে আমরা খুব কষ্টে আছি। ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বের হচ্ছি। কখন যে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হই, কিছুই বলা যায় না। রাসেল নামের আরেক সবজি বিক্রেতা বলেন, আগে রিকশা চালাতাম। করোনার কারণে এখন পুলিশ রিকশা নিয়ে বের হতে দেয় না। আবার বের হলেও প্যাসেঞ্জার কম পাওয়া যায়। তাই সবজি ব্যবসায় নেমেছি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj