অর্থনীতি বাঁচাতে দেশে দেশে শিথিল হচ্ছে লকডাউন

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপর্যুপরি হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই করোনা লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। কেননা, লকডাউনে কার্যত থমকে গেছে মানুষের জীবন-জীবিকা। ধসে পড়ছে অর্থনীতি। দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বিশ্বজুড়েই। ইউরোপের দেশগুলোতে করোনার প্রকোপ প্রথম থেকেই বেশি। সেখানে লকডাউনও চলছে বেশ আগে থেকেই। এবার ধীরে ধীরে তারা লকডাউন শিথিল করছে। এরই মধ্যে লকডাউন শিথিল করেছে ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও চেক রিপাবলিক। এক মাসেরও বেশি সময় লকডাউন থাকার পর গত সপ্তাহে তা শিথিল করে স্পেন। ইতোমধ্যে সেখানকার দোকানপাট ও কলকারখানা খুলতে শুরু করেছে। শিথিল করা এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আগামী ৪ মে থেকে লকডাউন শিথিল হচ্ছে ইতালিতে। জার্মানিও লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গ্রিস ও দক্ষিণ কোরিয়ায় লকডাউন শিথিল হয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুহারের শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন অনেক মার্কিন নাগরিক। তারা এই লকডাউন মানতে নারাজ।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তারা। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও লকডাউন চলবে আগামী ৩ মে পর্যন্ত। তবে পরিস্থিতি শিথিল করার পরিকল্পনা চলছে। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন শিথিল হয়েছে। দেশটির কেরালা, মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন শিথিল হয়েছে। ভারতের প্রখ্যাত মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. জয়প্রকাশ মুলিয়িল বলেছেন, করোনার বিরুদ্ধে লকডাউন কোনো সমাধান হতে পারে না। এটা একটি সাময়িক ব্যবস্থা। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে, যা আগামী ২৫ এপ্রিল শেষ হবে। তবে ছুটির মেয়াদ আবারো ১০ দিন বাড়তে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও লকডাউন শিথিল করা যায় কিনা, তা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রবল খাদ্যাভাবে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২৬ কোটি ৫০ লাখ হতে পারে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯- এর কারণে নতুন করে ১৩ কোটি মানুষ প্রবল খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। যদিও আগে থেকেই খাদ্যাভাবে রয়েছে বিশ্বের ১৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের কারণে এ সংখ্যাটি দ্বিগুণ হবে।

এদিকে করোনায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখ ছুঁই ছুঁই করছে। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রে রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৫ জন। আর এতে বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর চারভাগের একভাগ হয়েছে সেখানে। দেশটিতে প্রাণ গেছে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের। শনাক্ত রোগীর সংখ্যার দিকে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে ২ লাখ ৮ হাজার ৩৮৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২১ হাজার ৭১৭ জন। ইতালিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫৭ এবং মারা গেছেন ২৪ হাজার ৬৪৮ জন। ফ্রান্সে শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২০ হাজার ৭৯৬ জন। অন্যদিকে ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৮৬২। দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ৬৩৬ জন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj