ডেন্টাল রোগীদের পাশে আছে ডেন্টাল চিকিৎসকরা

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্য দাঁতের ব্যথা অন্যতম। কিছু গবেষণা বলে ক্ষেত্রবিশেষে দাঁতের ব্যথা অন্যসব ব্যথার তীব্রতাকে পেছনে ফেলতে পারে। সেল্ফ কোয়ারেন্টিন বা ঘরে থাকার এ সময়ে দাঁতের কষ্ট বা মুখগহŸরের অন্য কোনো কষ্টে রোগীরা কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ছেন, কারণ তাদের আস্থাভাজন ডেন্টাল চিকিৎসকদের অনেকেই হয়তো যৌক্তিক কারণে টেলিমেডিসিনে উৎসাহ দিচ্ছে।

প্রকৃত কারণ না বুঝে কেউ হয়তো মনে করছে চিকিৎসকরা কেবলমাত্র নিজেদের সুরক্ষায় এমনটি করছে। দেশে প্রায় তেরো হাজার অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও ধারণা করা যায় প্রাইভেট ডেন্টাল ক্লিনিকের সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি হবে না আর বিএসএমএমইউ, সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, সরকারি হাসপাতাল ও করপোরেট হাসপাতালগুলোতে কাজ করেন কিছু ডেন্টাল চিকিৎসক। চিকিৎসকরা নিজেদের সুরক্ষার কথা ভাবলে খুব সহজেই নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক সময়ের মতো সেবাদান করতে পারত। সরকারি পর্যায়ে সরকারি চিকিৎসকদের, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা বিভিন্ন ডেন্টাল সংগঠনের মাধ্যমে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুপমেন্ট (পিপিই) সহজেই হয়তো জোগাড় করতে পারে। কিন্তু ইমারজেন্সি বা অতি জরুরি জটিলতা ছাড়া সাধারণ রোগীদের এখন রোগীর নিজের ও তার পরিবারের সুরক্ষার জন্য ঘরে থাকার আহ্বান করছে সমগ্র বিশ্ব। মাত্র চার মাসে জন্ম নেয়া ভয়াবহ ছোঁয়াচে এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করে চিকিৎসা দেয়ার মতো প্রস্তুতি শুধু আমাদের দেশেই নয়, উন্নত বিশ্বের অনেক ডেন্টাল ক্লিনিকে ছিল না। গবেষণা বলছে উপসর্গ ছাড়াই কোভিড ১৯ কে বহন করতে পারে প্রায় ১৪ দিন বা তার বেশি, আবার যাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো তাদের উপসর্গ নাও হতে পারে। কেউই এখন নিশ্চিত নয়, কার মধ্যে বাস করছে এই অদেখা শত্রু। আর তাই ডেন্টালের যে রোগটিকে সহজে টেলিমেডিসিন পরামর্শে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটি না করে রোগীকে ক্লিনিকে আসতে না বলাটাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে বের হলেই ধরে নিতে হবে যে কেউ এক অদেখা শক্তিশালী শত্রু বেষ্টিত যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রবেশ করল।

আর তাই করোনা মোকাবিলায় ঘরে থাকার কোনো বিকল্প নেই। পূর্ণ বিশ্বাস রাখবেন আপনাদের মুখের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে এই দুর্যোগেও ডেন্টাল চিকিৎসকরা প্রস্তুত, তবে অতি জরুরি কারণ ছাড়া সাময়িকভাবে ডেন্টাল চেকআপকে নিরুৎসাহিত করছে সমগ্র বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা কারণ ডেন্টাল ক্লিনিক করোনা ছড়ানোর অন্যতম স্থান হিসেবে উল্লেখ করা যায়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকেই কোভিড ১৯ হিসেবে বিবেচনা করা নিরাপদ।

ভাইরাসটির প্রিয়স্থান হচ্ছে উপরের শ^াসতন্ত্র, ফলে মুখগহŸরের মধ্যে লালার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারে ভাইরাসের দল। আবার অনেকে দাঁতের ব্যথা উপশমে করোনা উপসর্গের ইতিহাস লুকাতে পারে বা চিকিৎসকে করোনা সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নগুলোর মিথ্যা উত্তর দিতে পারে। এমন অবস্থায় চিকিৎসক ও তার সহকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে চিকিৎসা প্রদান করতে পারলেও মহাঝুঁকিতে পড়তে পারে ক্লিনিকের উপস্থিতি অন্য যে কেউ।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজেকে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও কোনো কোভিড ১৯ রোগীর স্পর্শের জায়গা থেকে যে কেউ সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ থাকে। তারপরও অতি জরুরি একটি বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করা এই মুহূর্তে অনেক ক্লিনিকের জন্য প্রায় অসম্ভব আর সেটি হলো চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ যন্ত্র থেকে এরাসলের মতো না দেখা জীবাণু সংবলিত পদার্থ তৈরি হয়ে বাতাসে মিশে যাওয়া। গবেষণা বলছে নভেল করোনা বাতাসবাহী না হলেও ডেন্টাল ক্লিনিকের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে তৈরি এরাসলে এরা কিছু সময় বাতাসে থাকতে পারে আর সুযোগ পেলেই পর্যাপ্ত নেগেটিভ চাপের অনুপস্থিতিতে অন্যের অরক্ষিত মুখ, নাক বা চোখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে বা শরীরের কোথাও লেগে সেখান থেকে একই পথে ঢুকতে পারে।

করণীয় :

এই মুহূর্তে ডেন্টালের যে কোনো কষ্টে কষ্টকে পুষে না রেখে আপনার বা আপনার পরিচিত কারো আস্থাশীল চিকিৎসকের কাছ থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে পরামর্শ নিন। অনেক ডেন্টাল সংগঠন জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জরুরি টেলি পরামর্শের নম্বর দিচ্ছে সেখান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করতে পারেন, এ ক্ষেত্রে বিএফডিএসের একটি বিশেষ দল সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রথম থেকেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে, বিশ্বের এই ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসকরা ফোনে বিরক্ত হবেন না, তবে মনে রাখতে হবে তারা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মুখের কষ্ট লাঘবে অনেক টেলিপরামর্শ দিতে ব্যস্ত, তাই দ্রুত জরুরি পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে টেলিমেডিসিনে প্রাথমিক সমাধান পাবেন তবে নিয়ন্ত্রণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথ মেনে ও চিকিৎসকের প্রশ্নের সত্য জবাব দিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসতে হবে তাতে সবার ঝুঁকি কমবে।

পরিস্থিতি অস্বাভাবিকের এই দিনগুলোতে মুখের রোগ যেন না হয় সেদিকেও বিশেষ সতর্কতা জরুরি যেমন-

১। প্রতিদিন সকালে নাস্তার পর ও রাতে খাবার পর ফ্লোরাইড যুক্ত ভালো মানের টুথপেস্ট ও নরম টুথব্রাশের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ মিনিট দাঁতের সব পৃষ্ঠ পরিষ্কার করা।

২। দাঁতের ফাঁকে খাবার ঢোকার প্রবণতায় ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার, প্রয়োজনে গরম পানিতে খাবার লবণ মিশিয়ে বা জীবাণু রোধক মাউথ ওয়াশ দিয়ে কুলি করা যেতে পারে।

৩। দাঁতের ও মুখের স্বাস্থ্যবান্ধব খাবার গ্রহণ, যেমন মিস্টি জাতীয় খাদ্যের পরিবর্তে মৌসুমি ফল, শাক-সবজি, ডিম, টকদই, দুধ, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদিতে উৎসাহিত হই।

৪। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে ঠিক রাখতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ঘরে ব্যায়াম করুন, ঘুমান ও আতঙ্ক থেকে দূরে থাকুন ও অন্যান্য রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৫। ধুমপান, মদপান, জর্দা, পান, সুপারি সম্পূর্ণ পরিহার করুন

স্পষ্টভাবে মনে রাখবেন দেশের ডেন্টাল চিকিৎসকরা আপনাদের ডেন্টাল রোগের সুপরামর্শ দিতে প্রস্তুত।

রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, ধানমন্ডি ও

রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান

সদস্য সচিব, বিএফডিএস।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj