ভরসা এখন স্মার্টফোনেই

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

আশরাফুল ইসলাম রানা

চলছে সরকারি ছুটি। এসময়ে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ অধিকাংশ সময়ে ঘরেই থাকছে। পাশাপাশি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর পর থেকে অনলাইনে মিটিংয়ের (ভিডিও কনফারেন্সসহ) হার বেড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুগল স্কুল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। মানুষ অবসরের বিনোদন হিসাবে বেশি সময় কাটাচ্ছে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, ফেসবুকসহ নানা ইন্টারনেট মাধ্যমে। আর এর প্রভাব পড়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারে। এ সময়ে মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ি এপ্রিল মাসে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়েছে। মার্চ মাসের তথ্যানুযায়ী, বরাবরের মতো এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করেন। তবে ছুটির কারনে ফলে মোবাইল ইন্টারনেটের এই ব্যবহার বেড়েছে ২৫ শতাংশ। তাই এসময়ে ঘরে থেকে কাজ এবং অবসর কাটানোর জন্যে ভরসা স্মার্টফোনেই। আর স্মার্টফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হলো ব্যাটারি। বর্তমানে প্রায় সব ফোন নির্মাতা কোম্পানিই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করে থাকে। আশার কথা হলো, একটু খেয়াল রাখলেই এই ব্যাটারি একবার চার্জ দিয়ে লম্বা সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ বেশিক্ষণ ধরে রাখার উপায়গুলো নিয়েই এবার থাকছে কিছু টিপস ট্রিকস।

শতভাগ চার্জ নয়

স্মার্টফোনের ব্যাটারি সেভার মোড চালু করে নিতে পারেন। আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড চালিত বেশির ভাগ স্মার্টফোনে এই অপশন থাকে। কিছু ফোনে ব্যাটারির চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই মোড চালু হয়ে যায়। তবে, অনেকেই ভাবেন যে, স্মার্টফোনের ব্যাটারি একবারে শতভাগ চার্জ দিতে হয়। আর চার্জ ৯ থেকে ১০ শতাংশে নেমে না আসা পর্যন্ত ফের চার্জ দেওয়া উচিত নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শতভাগ চার্জ অথবা চার্জ সম্পূর্ণ খরচ করলে বরং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে করে ব্যাটারির মধ্যে থাকা রাসায়নিক দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যাটারির আয়ু কমে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারির চার্জ ৫০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে, চার্জ কমতে কমতে যেন ২০ শতাংশের নিচে নেমে না যায়।

তাপমাত্রা নিয়ে সচেতনতা

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কেন্দ্রে থাকা রাসায়নিক পদার্থ কখনোই খুব বেশি বা খুব কম তাপমাত্রা পছন্দ করে না। তাই ফোনকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। তাই গাড়ির ইঞ্জিন বরাবর অথবা সরাসরি সূর্যের আলোতে স্মার্টফোন রাখা উচিত নয়। এছাড়াও ব্যাটারির তাপমাত্রা দেখার জন্য এখন স্মার্টফোনগুলোতে কিছু অ্যাপ্লিকেশন দেওয়া থাকে। তবে, কোনো কারণে স্মার্টফোন কিছুদিনের জন্য ব্যবহার না করলে, দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, ব্যাটারি ৫০ শতাংশের কাছাকাছি চার্জ দিয়ে রাখা উচিত।

বন্ধ রাখুন অতিরিক্ত সেবা

অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবহার না করা সত্ত্বেও স্মার্টফোনে চালু থাকে ব্লুæটুথ ও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক। খেয়াল করে বন্ধ রাখবেন এগুলো। ব্যবহার না করেও ব্লুæটুথ ও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক চালু রাখলে তা নতুন সংযোগ খোঁজার কাজটি চালাতে থাকে। এতে ব্যাটারির চার্জ নষ্ট হয়।

‘আপডেট’ থাকুন

এখনকার স্মার্টফোনে গুগল ম্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ্লিকেশন ছাড়া প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই প্রি-ইনস্টল করা থাকে। ব্যাটারি দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী রাখতে ফোনের সবধরনের সফটওয়্যার আপডেট করার বিকল্প নেই। আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড দিন দিন বেশ উন্নতি করছে। এই অপারেটিং সিস্টেমগুলো ইদানিং নিজ থেকেই ব্যাটারি সংক্রান্ত অনেক বিষয়ের ওপর নজরদারি করার সক্ষমতা অর্জন করছে। তাই সফটওয়্যারগুলোর সর্বশেষ ভার্সন ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে। অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার হালনাগাদ করা থাকলে ফোনগুলো ‘ম্যালওয়্যার’ অথবা ‘ভাইরাস’ প্রতিহত করতে পারে।

একবার চার্জে বেশি সময় ব্যবহার

প্রতিটি ব্যাটারির নির্দিষ্ট জীবনকাল আছে। কত দিন একটি ব্যাটারি সেবা দিতে পারবে সেটি নির্ধারণ করে দেয় এর ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদান। প্রতিবার শতভাগ চার্জ আর পুরোপুরি ব্যবহার ব্যাটারির জীবনকালকে সীমিত করে ফেলে।

এ জন্য একবার চার্জ করে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার চেষ্টা করা উচিত। কিছু বিষয়ের দিকে একটু নজর দিলে চার্জ কম খরচ করেও দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করা যায়। যেমন, মোবাইল স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা ও ফোনের স্পিকারের পরিবর্তে হেডফোন দিয়ে ভিডিও দেখা ও অডিও শোনা ইত্যাদি।

বন্ধ রাখুন নিজ থেকে

একটি স্মার্টফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে আরও অনেক অ্যাপ্লিকেশন চালু থাকে। এর মধ্যে একটি হলো বিভিন্ন অ্যাপের স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ (অটো আপডেট) হওয়ার ব্যবস্থা। এটি বন্ধ রাখলে ব্যাটারির চার্জ খরচ কম হবে। আর হালনাগাদ করার প্রয়োজন হলে ম্যানুয়াল আপডেট করার সুযোগ তো থাকছেই। পাশাপাশি গুগল ম্যাপ বা আরও কিছু অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান জানার প্রয়োজন হয়। এ জন্য চালু রাখতে হয় লোকেশন ট্র্যাকিং।

এতে বেশি চার্জ প্রয়োজন হয়। তাই যেসব অ্যাপ্লিকেশনে লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের প্রয়োজন নেই, সেসব ক্ষেত্রে এই সুবিধা বন্ধ রাখা যেতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সেটিংসে গিয়ে লোকেশন ট্র্যাকিং বন্ধ করা যায়।

তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার ও ওয়্যারড

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj