ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাস বিস্তারের নানা দিক উঠে এসেছে। আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অগণন। প্রতিরোধ প্রস্তুতি চলছে। পৃথিবীজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্বিগ্নতা বাড়ছে। নানা তথ্য অনুসন্ধানে ১০০ ভাগ সফলতা আসেনি। আমরা আশা করি বিজ্ঞানীরা অন্য রোগ সংক্রমণ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী বিশেষ লক্ষণ না বহন করে অন্য মানুষকে করোনা ভাইরাস সহজে উপহার দিতে পারে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন মানুষের চলাচল, দেখাসাক্ষাৎ মেলামেশা সীমিত করে দিলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সীমিত হতে বাধ্য। আধুনিক সমাজে তা কি সম্ভব? করোনা ভাইরাস খুব সহজে যাতে অন্যদের সংক্রমণ না করতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে। নিত্যনতুন যন্ত্র আবিষ্কার হচ্ছে। আমরা যন্ত্রের মতো হয়ে যাচ্ছি। আমাদের মানবিকতা হারাচ্ছে। স্বার্থপরতা প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জন আর নিজেকে জাহিরের মতো কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি অবলীলায়। প্রশ্ন উঠতে পারে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? হাত ধোয়া সাবান, মাস্ক এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়নি। বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মেধা, শ্রম ও ভালোবাসায় শুশ্রƒষার কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জনসমাগম বেশি হয় এমন সব জায়গা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বেঁচে থাকা জরুরি বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসা সবকিছু জয় করতে চায়। পারেও। আমরা আমাদের সব শক্তি দিয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে চাই।

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু শহর সিল করে দেয়া হয়েছে। বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিছু বিষয়ে এখন গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। সব দক্ষ প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি সময়ের দাবি মাত্র। রাজনৈতিক, সামাজিক, চিকিৎসক ফোরাম ও স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন জরুরি। ঘরে ঘরে স্যাম্পল টেস্ট ও খাদ্য বিতরণ হয়তো সম্ভব নয়। সম্ভব এলাকাভিত্তিক ভোলেন্টার মনোনীত করে ক্রাশ কার্যক্রম গ্রহণ করা। যেহেতু বিশাল বাহিনী গড়া সম্ভব নয়। দুই-চারজন বিশেষ পোশাক পরে কিছু কাজ করতে পারেন। পেছনে থাকবে অভিজ্ঞ দল। পরিকল্পনা ও প্রয়োগ দরকার। চীনে সচেতনতার কারণে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে। ইতালি এখনো ঝুঁকির মুখে। আমাদের দেশে সচেতনতার প্রয়োজন। চিকিৎসকদের বিশেষ পোশাক পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিশ্ব পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ বিষয় ভেবে তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হচ্ছে। তার চারপাশে চালচোর, সুযোগ সন্ধানীর করছে। তিনি এদের সতর্ক করে দিয়েছেন। কঠোর শান্তিও হচ্ছে। সুযোগে কাঁচামালের দাম আকাশচুম্বী অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নজরদারি ও সচেতনতা এই দুঃসময় মোকাবিলায় সহায়ক শক্তি। এখন করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধু লকডাউন যথেষ্ট নয়। মহল্লায় মহল্লায় প্রতিটি ঘরে নজরদারি করা জরুরি। প্রতিটি কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য লোকজনদের কাজে লাগাতে হবে। বিভিন্ন বয়সের মানুষের সমন্বয়ে একটি সেল গঠন করে দেখতে হবে হোম কোয়ারেন্টাইন যথাযথ পালিত হচ্ছে কিনা। নতুন আইন জারির প্রয়োজন হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মোবাইল টিম গঠন করতে হবে। হাসপাতালে ইতোমধ্যে অনেক সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। কারো অবহেলাজনিত কারণে কোনো রোগীর যাতে মৃত্যু না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অনেক যোদ্ধা চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর আমাদের প্রতিদিন ভাবিয়ে তুলছে। পিপিইসহ তাদের সুরক্ষার দিকে ভাবতে হবে। তাদের বাসস্থান, খাবার ব্যবস্থা ও মানসিক অবস্থা ঠিক না থাকলে এ দুর্যোগ মোকাবিলা কঠিন হবে।

সাইফুজ্জামান
লেখক ও কবি

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj