রোজার বাজার স্থিতিশীল রাখুন

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

লকডাউনে পরিবহন সংকটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার খবর আসছে। দুদিন পর রমজান শুরু। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছি। করোনা পরিস্থিতিতে গত এক মাসে স্থানীয় বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মসুর ডাল, আদা, দেশি রসুন ও পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বাজারের বর্তমান হালচাল উদ্বেগের। রমজানের সময় ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, মসলা ইত্যাদি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা মওকা মুঝে এ সময়টাতেই চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। বড় ব্যবসায়ী থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার প্রবণতা এই সময় বেশি লাভ তুলে নেয়ার। এবারো সেই আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা করোনাকে ইস্যু করে দাম বৃদ্ধিকে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করবে- এটাই স্বাভবিক। এদিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অবশ্য এসব তৎপরতা প্রতি বছরই দেখা যায়। রমজানে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার এবং যে কোনো মূল্যে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সরকারের সঙ্গে ভোগ্যপণ্যের উৎপাদক ও বিপণনকারীরা আশ্বাস দেন রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু এরপরও রমজানের আগে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মানতেই হবে যে, অতীতের তুলনায় গত কয়েক বছরে রোজার সময় ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার মোটামুটি সফলতার পরিচয় দিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এবার সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ইতোমধ্যেই ভোজ্যতেল ও ছোলার এক দফা দাম বেড়ে গেছে। এতে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়েও। বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিপণন, বাজার মনিটরিং ইত্যাদি যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পরিবহন সংকটের দোহাই দিয়ে দেশীয় উৎপাদনের বাজারজাতকরণ বন্ধ করা যাবে না। কৃষক তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে পণ্য উৎপাদন করছে, তা যদি বাজারে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে এই দুঃসময় তাদের জন্য হয়ে উঠবে আরো অসহনীয়। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতেই হবে। এর বাইরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj