বৈশি^ক দুর্যোগ : সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০


বাংলা ১৪২৭ সাল বরণ করতে হয়েছে ঘরে বসে, যা বাঙালির ঐতিহ্যগত নববর্ষ উদযাপনের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। যে পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও গ্রাম একাকার হয়ে যায়, কোটি মানুষের আনন্দ-উল্লাসে রঙিন হয় দেশ, কোটি শিশু ও নারী-পুরুষের সঙ্গীতে মুখর হয় জনপদ, সেই নববর্ষ থেকেছে এবার শব্দহীন, রংহীন ও নিষ্প্রাণ! শুধু তাই নয়, করোনার মহাযুদ্ধে পর্যুদস্ত মানুষ এবার যেতে পারেনি সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে। বিশ্ব মহামারির কারণে সংক্ষিপ্ত বা বন্ধ থেকেছে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর বহু প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠান। অর্থাৎ মহামারির থাবা বিশ্বের সব জনপদের মতো বাংলাদেশকেও বিপন্ন করেছে, ঘরে আবদ্ধ করেছে, অসহায় করেছে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিজয়ের যুগে মানুষ এতটা বিপন্ন হবে, এতটা পরাস্ত হবে, কেউ কোনোদিন তা ভাবতে পারেনি। কিন্তু বাস্তবতা ঠেকানো যায়নি।

জীবনের সব যন্ত্রণা মানবিকতার দাবি পূরণ করে না। যদি তাই হতো তাহলে চীনের উহান থেকে জন্ম নেয়া রোগটি গোটা বিশ্বকে এভাবে বিপন্ন করতে ব্যর্থ হতো, অন্তত এই যুগে। সে যাই হোক, ১০০ বছর আগের একটি ঘটনার উল্লেখ করি। আমাদের পঞ্জিকার সঙ্গে পাঞ্জাবি পঞ্জিকার মিল আছে। পাঞ্জাবে এবারের ‘বৈশাখী’ বা নববর্ষের উৎসবটি ছিল ১৩ এপ্রিল, যা কুখ্যাত জালিয়ানওলাবাগ হত্যাকাণ্ডের ১০১তম বার্ষিকী। স্বাভাবিক নিয়মে দিনটি পালিত হওয়ার কথা ছিল ব্যাপকভাবে। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তা হয়নি।

১৯১৯ সালের ‘বৈশাখী’র দিনটি উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে এক কালোদিন। বিশ্বজুড়ে চলছে তখন প্রাণঘাতী স্প্যানিশ ফ্লুর দাপট। মরছে মানুষ হাজারে হাজারে। এরই মধ্যে চলছে ঔপনিবেশিক দমননীতি। নিপীড়ক ‘রাওলাট আইন’ ব্যবহার করে একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। এরই মধ্যে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার হলেন শীর্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামী ডা. সত্যপাল ও সাইফুদ্দিন কিসলু। কাজেই অমৃতসরের ‘বৈশাখী’র দিনে সমবেত হলেন হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে। কিন্তু ইংরেজ ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র জনতার ওপর চালানো হলো গুলি। সেই নির্বিচার গুলিতে নিহত হলেন শিশু ও নারীসহ ৪০০ জন মানুষ, আহত হলেন ১২০০ জন। মহাত্মা গান্ধী জেনারেল ডায়ারকে ‘কসাই’ বলে অভিহিত করলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘নাইট’ উপাধি পরিত্যাগ করলেন, দেশজুড়ে প্রতিবাদ হলো। অবশ্য এর ২১ বছর পর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী পাঞ্জাবের তখনকার গভর্নর জেনারেল মাইক্যাল ডোয়ারকে প্রাণ দিতে হলো ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী উধান সিংহের বুলেটে, লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে।

মহাযুদ্ধ শেষে স্প্যানিশ ফ্লুর মহামারিতে সারাবিশ্বে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, আক্রান্ত হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন। প্রাণঘাতী রোগের সঙ্গে নেমেছে ক্ষুধার বিস্তৃত হাহাকার, যা মূলত গ্রাস করেছে গরিব অঞ্চলগুলোকে। অতএব করোনা বা কোভিড-১৯ এর মহামারির সঙ্গে নতুন দুর্ভিক্ষ বা মন্দা যে বিশ্বকে গ্রাস করবে- তা প্রায় নিশ্চিত। সে দুর্ভিক্ষ কত মানুষের জীবন কেড়ে নেবে, কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশেষত আমাদের মতো দেশগুলোতে, আগেভাগে তা বলা যাবে না।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারিতে প্রাণহানি এরই মধ্যে দেড় লাখের অনেক ওপরে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়েছে। বাংলাদেশও কার্যত অচল। টানা সাধারণ ছুটি বা ‘লকডাইন’-এর কারণে রাজস্ব আদায়, আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়সহ অর্থনীতির সব সূচক স্থবির হয়ে পড়ছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী নতুন বিশ্বে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ধাক্কা কেমন হবে, তা মোকাবিলায় সরকারের কি করণীয় হবে এসব নিয়ে বেশকিছু জরিপ হয়েছে এরই মধ্যে। এসবে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে নি¤œ আয়ের মানুষ। রিকশা চালক, দিনমজুর, গৃহপরিচারিকা, রেস্টুরেন্ট কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অটোচালক, কৃষক, জেলে, দোকানি, বিদেশফেরত মানুষেরা।

খবরে বলা হয়েছে, খাদ্য, বকেয়া বেতন বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাবিতে দেশের বেশকিছু জায়গায় মানুষ সড়কে নেমে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম কিছু এলাকায় নি¤œ আয়ের মানুষ খাবার না পেয়ে জংলি আলু খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। এসব এলাকার মানুষ জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এবার জুমের ফলন ভালো হয়নি। তদুপরি লকডাউনের কারণে হাটবাজার বন্ধ থাকায় উৎপাদিত পণ্যও বিক্রি করতে পারছেন না। প্রতিবেশীদের মধ্যে কেউ সহায়তা করবেন, সেই সামর্থ্যও নেই।

শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, প্রায় গোটা দেশের চিত্র ক্রমান্বয়ে অস্থির হয়ে ওঠার সম্ভাবনা, যদি না সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও দুর্যোগপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ করে এবং প্রখর নিয়মানুবর্তিতায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে বের করা না হয়। এরই মধ্যে দেশের বেশকিছু অঞ্চল থেকে বুভুক্ষু মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের ত্রাণ সামগ্রী লুণ্ঠনকারীরা বিন্দুমাত্র লজ্জাশরমে ভোগে না। এরা বেশির ভাগই থাকে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় এবং বরাবর একশ্রেণির ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা বা স্থানীয় পর্যায়ের নেতা। অতএব সরকারকে অবশ্যই এমন বিতরণ পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে যাতে সত্যিকার মানুষদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে।

আমাদের মতো দেশে মহামারির মতো বড় বিপদ রোধের একটি বড় সংকট হচ্ছে একশ্রেণির মানুষের উপলব্ধি শূন্যতা। সমাজের বেশির ভাগ মানুষ যেখানে সবকিছু মেনে নেয়, বুঝতে চেষ্টা করে, দুর্ভাগ্য হচ্ছে, ধর্মের দোহাই দিয়ে, একশ্রেণির মানুষ তা মেনে নিতে চায় না! একশ্রেণির বিদেশফেরতদের সঠিকভাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা না করা, রোগ লুকানো এবং দেশের ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার ফলে দেরিতে হলেও বাংলাদেশের রোগটি ছড়িয়েছে। প্রায় একই চিত্র দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে। অন্যদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাবলিগ জামাতের কর্মকাণ্ড চালানোর ফলে সংকট বেড়েছে ভারত, পাকিস্তান বাংলাদেশে। মালয়েশিয়ার ছবিও ভিন্ন কিছু নয়। মূলত সে দেশ থেকেই করোনা ছড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু এই তিন দেশে।

বাংলাদেশের মতো বাকি তিন দেশও তাবলিগ জামাতকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু কেউ শোনেনি। ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতারা এ ব্যাপারে তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করছে, কিন্তু লাভ হয়নি। রোগটি প্রাদুর্ভাবের বেশকিছু লক্ষণ দেখা গেলে বাংলাদেশে অবশ্য সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাবলিগ জামাত। কিন্তু সংকট বেধেছে পাকিস্তানে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নির্দেশ এখনো মানছেন না সে দেশের জামাত।

পাকিস্তানে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি। ইরান ফেরত একজনের শরীরে মেলে কোভিড-১৯। তারপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও লাহোরে বসে তাবলিগ জামাত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আড়াই লাখ মানুষ তাতে যোগ দেন বলে পাকিস্তানের সংবাদপত্র ‘ডন’ জানিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি খারাপ হতে সময় লাগেনি। দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেন। কিন্তু ধর্মীয় নেতাদের অনেকেই তা শুনছেন না। ফলে বেশিরভাগ মসজিদই খোলা। জুমার নামাজও চলছে। আর বাড়ছে করোনার প্রকোপ। আফগান সীমান্তের টাপতানে গড়ে তোলা হয়েছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরেও রাখা হচ্ছে করোনার সন্দেহভাজন আক্রান্তদের। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বিশ্বের বহু দেশের চাইতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই ভালো, যদিও রোগটির সংক্রমণের লক্ষণ দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ আছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সব ধরনের ধর্মীয় জমায়েতের থেকে জনগণকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে, অনুরোধ জানিয়েছে সবাইকে ঘরে থাকার। এরই মধ্যে মসজিদে ৫ এবং জুমায় ১০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে টঙ্গীর তাবলিগ ইজতেমা। কিন্তু পাকিস্তান বা ভারতের মারকাজের অনুসারীরা সেই পথে না হাঁটায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ।

ধর্মের উদারতা মানুষকে মহান করে, এর সংকীর্ণতা করে অন্ধ। খবর প্রচারিত হয়েছে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় খ্রিস্টান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে করাচিসহ বিভিন্ন শহরে। অথচ বর্তমান সময়টা সবাই মিলে মহামারিতে বেঁচে থাকার সময়, একই সঙ্গে সৌহার্দ প্রতিষ্ঠার সময়। অবশ্য যে পাকিস্তানে যুগ যুগান্তর ধরে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চলে এসেছে, তাদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, সে দেশে এমনটা চলাই স্বাভাবিক হয়তো।

যে কোনো ধর্মেই একসঙ্গে সমবেত হয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানানো একটি সাধারণ রীতি। কিন্তু মহামারির দিনে যখন সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বকেই নিরাপদ থাকার এবং অন্যকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে বড় নিয়ম বলে মানা হচ্ছে, তখন মানুষকে অবশ্যই জীবনধারা পাল্টাতে হবে। কারণ এই মহামারি প্রায় প্রতিটি দেশে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পাল্টে দিয়েছে, মানুষকে করেছে ঘরবন্দি, পাঠিয়েছে নিঃসঙ্গ জীবনে। দেশে দেশে লকডাউনের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের পাশাপাশি জনসমাগমের জায়গা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও ঝুলছে বিধিনিষেধের তালা। না, এসব ধর্ম বা ধর্মাচারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নয়, কেবল সাময়িক সতর্কতা। প্রথমদিকে ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত বা পাকিস্তান যদি তা মানতো তাহলে হয়তো সংকটের এতটা অবনতি হতো না।

এপ্রিলের শেষ ভাগে শুরু হবে মুসলমানদের সংযমের মাস রমজান। ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা এই মাসে রোজা রাখেন, গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে ইফতার করেন। মসজিদে নামাজ পড়েন, বিশেষত তারাবির নামাজ। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবসহ কিছু মুসলিম দেশ রোজার তারাবি নামাজ ঘরে পড়ার অনুরোধ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনুরোধ জানিয়েছেন ঘরে বসেই তারাবির নামাজ পড়তে। প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্মের বহিরাঙ্গ নিয়ে আমাদের অনেকেই অনেক বেশি সতর্ক ও সোচ্চার, কিন্তু রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে আমরা কি ধর্মের অনুশাসন মেনে চলি? নিশ্চয়ই না। ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, যা তার স্বাধীনতা। কিন্তু সামাজিক বিধিনিষেধ মেনে চলা সামাজিক দায়বদ্ধতা। আশা করি এই মহামানবিক বিপর্যয়ের দিনে আমরা সবাই সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যাব না।

হারুন হাবীব : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj