পিপিইর ঘাটতি দূর করুন

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০

রম্য সাহিত্যিক সৈয়দ মজতুবা আলী বলেছিলেন ‘ম্যালেরিয়া সারাবে কুইনাইন। কিন্তু কুইনাইন সারাবে কে?’ দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়েও এখন এমন প্রশ্ন সামনে আসছে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন যারা, তারাই যদি সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে আক্রান্ত হন, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে কে? যে হারে চিকিৎসকরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এতে স্বাস্থ্য খাত ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসক-নার্সদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পিপিই নীতিমালা অনুযায়ী রোগীর নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য এন-৯৫ মাস্ক পরা জরুরি। কিন্তু মার্চের শেষ ভাগে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব মাস্ক পাঠানো হয়, তার প্যাকেটে ‘এন-৯৫’ লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক। ফলে এসব মাস্ক ব্যবহার করে চিকিৎসকরা আক্রান্তের খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক দেয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। গত সোমবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। এ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪০টি পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৬৯টি বিতরণ করা হয়েছে। শুরু থেকেই লক্ষ করেছি করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট, পিপিইসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম পেতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হলেও এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর মধ্যে সুরক্ষা সরঞ্জাম যদি ব্যবহার উপযোগী না হয় সেক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি চিকিৎসাসেবা মান। কর্তব্যের তাড়নায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে নিজের অজান্তেই করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, সার্বিক সমন্বয়হীনতা, আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে আছে নানা সমালোচনা। এসব সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। করোনা সংক্রমণের প্রথমদিকে হাসপাতালগুলোতে পিপিই সরবরাহ না থাকায় চিকিৎসকদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিতে অনাগ্রহী ছিলেন। অনেক চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ রাখেন। আশার কথা, এ সমস্যা কেটে গেছে, চিকিৎসকরা কর্মস্থলে ফিরেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা। প্রথমত তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন পিপিইর ঘাটতি দূর করা, পর্যাপ্তসংখ্যক গুণগত মানসম্পন্ন পিপিইর ব্যবস্থা করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পিপিইর কী মান নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেদিকেও আমাদের নীতনির্ধারকদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj