গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করুন

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

১৮১টি কারখানায় শ্রমিকরা মার্চ মাসের বেতন এখনো পাননি। কারখানাগুলো তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত। কয়েকদিন ধরে বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ মিছিল করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য মালিকপক্ষ একাধিক দিন ধার্য করলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। গার্মেন্টস খাতে প্রতি বছর রপ্তানি আয় প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার হলেও কেন তারা শ্রমিকদের এক মাসের বেতন নিশ্চিত করতে পারল না- এমন প্রশ্ন সামনে আসছে। বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ এবং দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ জোগান দেয় এই খাত। এই বিপুল মুনাফার জোগান আসে মূলত শ্রমিকদের সস্তা শ্রম থেকে। বছরের পর বছর সরকার বাজেটের মাধ্যমে গতানুগতিক পথে- এ ছাড়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক অজুহাতে এই শিল্পের মালিকদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যায়, পোশাক শ্রকিদের বেতনভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা লেগেই থাকে। করোনা ইস্যুতে নতুন করে সংকটে পড়ছে তৈরি পোশাক খাত। করোনার প্রভাবে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে কোনো ধরনের শিল্পকারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই না করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শিল্পমালিকদের নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু এ নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বেশকিছু গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা অমানবিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সংকটকালীন শ্রমিক কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এমতাবস্থায় প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার নিয়ে আমরা নয়ছয় দেখতে চাই না। শ্রমিকরা যেন সঠিক সময়ে তাদের বেতন বুঝে নিতে পারেন- বিজিএমইএ নিশ্চয় বিষয়টি তদারকি করবে। বাংলাদেশে মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ ভাগের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। সে সুবাদে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা বাংলাদেশের। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গুরুত্বপূর্ণ এ অবদান সত্ত্বেও পোশাক শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। এ খাতের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। এরপরও অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক অর্থ আয় করছে। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাই নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিকদের চাকরি নিরাপত্তা, বেতনের নিশ্চয়তা। দেশের বর্তমান দুর্যোগময় করোনা পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের সামাজিক অসন্তোষ দেখতে চাই না। পোশাক শ্রমিকদের গত মাসের বেতনভাতা দেয়ার বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে বিশেষভাবে উদ্যোগী হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা আছে, তা দূর করতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj