যে তাপমাত্রায় মৃত্যু হয় করোনার

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : মহামারি করোনা ভাইরাসে জেরবার পুরো পৃথিবী। কীভাবে একে থামানো যায় তা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে গবেষণা করছেন বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা। প্রতিটি সংক্রামক ব্যাধি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর গতি-প্রকৃতি পাল্টায়। ফ্লু সাধারণত শীতের সময় হয়। ঠিক যেমনটা এসেছে করোনা ভাইরাস। অন্যদিকে টাইফয়েড আসে গরমে। এখন তাই অনেকের ধারণ, শীতে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাস তবে কি ঋতু পরিবর্তন অর্থাৎ গরমে কমে যাবে? অনেকে আশা করে বসে আছেন গ্রীষ্মকাল আসতেই চড়া রোদে মরে যাবে করোনা ভাইরাস। তবে আশায় পানি ঢেলে দিয়েছেন ফ্রান্সের গবেষকরা। তারা গবেষণায় দেখেছেন গ্রীষ্মের দাবদাহে কেভিড-১৯ ভাইরাসের মৃত্যুর কোনো সম্ভাবনা নেই। ন্যূনতম ৯২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে এই ভাইরাসের মৃত্যু হয় না। ভাইরোলজি গবেষকরা বলছেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোভিড ১৯-এর মৃত্যু হয় না। অন্তত ৯২ থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পৌঁছলে, তবেই শেষ হতে পারে এই মারণ ভাইরাস। ফ্রান্সের এইক্স-মার্সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় এই তথ?্য উঠে এসেছে। গবেষণাপত্রটি কয়েকদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘণ্টা ধরে করোনা ভাইরাসের নমুনা রাখার পরও দেখা গেছে, ভাইরাসের কিছুই হয়নি বরং ভাইরাসটি এই তাপমাত্রাতেও স্বাচ্ছন্দ্যে বংশ বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। তবে ৯২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ১৫ মিনিট রাখার পর এই ভাইরাসের মৃত্যু ঘটে। জীবাণু বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় পানি ফুটবে টগবগিয়ে, একমাত্র তাতেই মৃত্যুর ঠিকানা লেখা কেভিড-১৯ ভাইরাসের। আর তাই শাকসবজি থেকে ফলমূল, বাজারের সবই ফুটন্ত গরম জল ঢেলে ধুয়ে নিতে বলছেন চিকিৎসকরা। নিষেধ করছেন কাঁচা দুধ বা কাঁচা সবজি খেতে। এমনকি বিধিনিষেধ চাপিয়েছেন ফ্রিজে রাখা বাসি খাবারের ওপরও। ব্যবহৃত জামাকাপড়ের ক্ষেত্রে সেগুলোকে গরম জলে ধুয়ে, দিনভর কড়া রোদে শুকানোরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj