সতেজ বাতাসের জন্য বাইরে খেলবে স্পেনের শিশুরা

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : সেই মার্চ মাসের ১৬ তারিখ থেকে চারদেয়ালে বন্দি স্প্যানিশ শিশুরা। অনেকের মতো তাদেরও যে বাইরে বের হওয়া নিষেধ। ভয়াবহ করোনা ভাইরাস ঠেকাতে আর কোনো উপায়ও ছিল না কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে সেই কঠোর নিয়মে কিছুটা হলেও শিথিলতা আনতে চাইছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে সতেজ বাতাসের জন্য ঘরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাবে দেশটির শিশুরা। স্পেনের অন্যতম শহর বার্সেলোনার মেয়র আডা কোলাওয়ের নিজেরও ছোট সন্তান রয়েছে। তিনিও সরকারের এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে মত দেন। বলেন, শিশুদের বাইরে যাওয়া দরকার। আর অপেক্ষা করবেন না, শিশুদের মুক্ত করে দিন।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে এক ব্রিফিংয়ে সানচেজ বলেন, স্পেন সবচেয়ে চরম মুহূর্ত এবং এই মহামারির নৃশংস আক্রমণকে ধরে পেছনে রাখতে সমর্থ হয়েছে। তবে তিনি সংসদকে স্টেট অব অ্যালার্ম (জরুরি অবস্থার তৃতীয় ধাপ) ৯ মে পর্যন্ত বজায় রাখতে বলেছেন। যেহেতু অর্জনগুলো এখনো অপর্যাপ্ত এবং ঠুনকো কিছু বিষয়ের ওপর দাঁড়ানো। তাই ত্বরিত সিদ্ধান্তে সেটা ক্ষুণœ করা যাবে না।

এদিনই দেশটিতে ৫৬৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যেটা এই মহামারির চূড়া থেকে খানিকটা কমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের কর্মীদের আগামী সোমবার থেকে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে। তবে দেশটিতে মূল লকডাউন চলমান থাকবে। বড়রা শুধুমাত্র খাবারের দোকান, ফার্মেসি এবং জরুরি কাজে বাইরে যেতে পারবে। আর শিশুরা পুরোপুরি তাদের বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না।

স্পেনের ৮০ লাখ শিশু এরই মধ্যে পাঁচ সপ্তাহ গৃহবন্দি অবস্থায় কাটিয়ে দিয়েছে। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্প্যানিশ চিনড্রেনস রাইটস সোয়ালিশন এই গৃহবন্দি দশার ফলে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছে। এই অবস্থায় শিশুদের বাইরে খেলাধুলা ও কিছুটা শারীরিক কার্যক্রম করতে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এরই মধ্যে ডেনমার্ক ও নরওয়েতে স্কুলগুলো আবার খোলা হচ্ছে। সুইডেনে এই মহামারির মধ্যেও স্কুল খোলা রেখেছে। যদিও সেসব দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ স্পেনের মতো এত তীব্র ছিল না। অবশ্য শিশুদের ঘরের বাইরে যাওয়াটা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বা তারা কতটা সময় বাইরে থাকতে পারবে; সেই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। সেজন্য আগে শিশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হবে। স্পেনে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত অন্তত ২ লাখ মানুষ।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। পরে সারাবিশ্বে সেটা মহামারি রূপ ধারণ করে। শনিবার রাত পর্যন্ত সারা বিশ্বে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ আর প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj