ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাখো মানুষের সমাগম : প্রশাসন কঠোর না হলে বিপর্যয় রোধ সম্ভব নয়

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

গত শনিবার সকালে লকডাউন উপেক্ষা করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসায় খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেয়। ঝুঁকিপূর্ণ এ আয়োজন ঠেকাতে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক। স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার জন্য এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এভাবে জনসমাগম হলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষকে অন্তত ৩ ফুট শারীরিক দূরত্বে থাকতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছে সরকার। জনসমাগম এড়াতে সরকারের তরফ থেকে মসজিদেও জামাতে নামাজ না পড়তে বলা হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে এই জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আগেই। এ ক্ষেত্রে এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় যেতে পারার কথা নয়। কিন্তু এরপরও জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের জমায়েতে সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে আতঙ্কিত অনেকে। এই সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনা সদস্য, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন। কিন্তু এত কিছুর পর এই জমায়েত আমাদের সামনে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার সুযোগ করে দিল। কিছুদিন আগে পোশাক কারখানার মালিকদের নির্দেশে ঢাকামুখে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিকের ঢল নামে। সে সময়ও প্রশাসন এসব শ্রমিকের সামাজিক (শারীরিক দূরত্ব) দূরত্ব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। প্রশাসনের সমন্বয়হীতা আবার সামনে চলে আসে। শুধু প্রশাসন কেন? আমাদেরও তো দায় রয়েছে। প্রথমদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মানুষজন কম বের হলেও এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ চলাচল বেড়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের চরমভাবে খেসারত দিতে হতে পারে। নিতান্ত প্রয়োজনে তো বটেই, কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ বেরিয়ে আসছে ঘর থেকে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বলছে, পেটের প্রয়োজনে বের না হয়ে উপায় নেই। অতিদরিদ্ররা দলবেঁধে সাহায্যের আশায় বসে পড়ছেন মোড়ে মোড়ে। নানা ছুতায় রাস্তায় ভিড় করছেন তরুণরা। রাজধানীর সড়কগুলোতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চলতে দেখা যাচ্ছে। এমন চিত্র প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসছে। অবস্থা এমনই মানুষকে ঘরে রাখতে পারাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিকদের ঘরে রাখতে হলে কিছু সামাজিক কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের সহনশীলতার পাশাপাশি হতে হবে কঠোরও। এই দুর্যোগে আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই মিলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। আমরা মনে করি, এ মুহূর্ত থেকে প্রশাসন কঠোর না হলে এই বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। ধর্মীয় আচারের ক্ষেত্রে সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে সবাইকে। ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বসে প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj