লকডাউনে চাপমুক্তি

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

আশরাফুল ইসলাম রানা

হঠাৎ এক ভাইরাসের আক্রমণে টালমাটাল বিশ্ব। দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজারের কোটায়। সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে টানা সরকারি ছুটিও। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরে থাকাই এখন একমাত্র প্রতিরোধ। তবে, লকডাউন চলাকালীন বাড়িতে থাকার এই সময়টাতে চাই শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক শক্তি।

প্রথম পর্যায়ে যখন লকডাউন ঘোষণা হল মানুষ ভাবল যেভাবেই হোক খাবার সংগ্রহ করতে হবে। ঝাঁপিয়ে পড়ে বাজার করা শুরু হল যাকে বলা হয় প্যানিক বাইং অর্থাৎ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা করা। যে যা পারে কিনছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত। পরে খাবারের জোগান আছে জেনে জনসাধারণের উদ্বেগ কমেছে।

তবে বৈশ্বিক সংক্রমণ বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়ে যাবে। ‘ফ্রাস্টেশন অ্যাগ্রেশন হাইপোথিসিস’ অনুযায়ী হতাশ মানুষ সহজে রেগে যাবে, আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। বলা যায় এই রোগ আর লকডাউন থেকে আশু মুক্তি নেই। বরং করোনা সংকটকালীন সময়ে কী করে ভালো থাকা যায় একটু দেখে নেয়া যাক।

১. আগে অফিস ব্যস্ততার জন্য বাড়ির ছোট থেকে বয়স্ক কাউকেই ঠিক মত সময় দিতে পারতেন না। এই হোম কোয়ারেন্টাইনের সময়টাকে কাজে লাগান। কাজের ফাঁকে সময় দিন নিজের পরিবারকে যেমন দুপুর ও রাতের খাবার খান পরিবারের সঙ্গে। শেয়ারিং বাড়লে মানসিক সুস্থতা ঠিক থাকে।

২. প্রত্যেক দিন সকালে উঠে কিছু ব্যায়াম করতে হবে। যেমন আধঘন্টা ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ বা স্ট্রেচিং। এখন সকালে হাঁটতে যাবার দরকার নেই।

৩. দিনভর ঘরে থাকার কারনে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এসেছে সবারই। আগ্রহ থাকলে নতুন নতুন রান্নার রেসিপি নিয়ে করতে পারেন এক্সপেরিমেন্ট। তবে অবশ্যই কম তেল মশলা দেয়া স্বাস্থ্যকর খাবারদাবার খাবেন। এবং ঘুমটা হতে হবে পর্যাপ্ত ।

৪. খুব কম সময়ের জন্যে টিভির খবর দেখুন। সোশ্যাল মিডিয়ার খবরের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন না। গুজবে বিশ্বাস না করে আগে তথ্য যাচাই করবেন।

৫. যে সমস্ত আত্মীয় বন্ধুদের সঙ্গ পছন্দ হয় তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগে রাখুন। ভিডিও কলে যোগাযোগ বাড়ান।

৬. গুগল দেখে রোগের উপসর্গ মিলিয়ে নিজের করোনা ইনফেকশন হয়েছে কিনা বোঝার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৭. বইপড়া, পছন্দের সিনেমা দেখা ( মোবাইলে বা টিভিতে), পছন্দের গান শোনার পুরান অভ্যেসগুলো ফিরিয়ে আনুন।

৮. নিজের এলাকার দরিদ্রদের সামর্থ্যনুযায়ী ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন চাল ডাল আলু কিনে দিন। তবে এসব কাজ করতে হবে সবরকম সাবধানতা অবলম্বন করে।

৯. আত্মপ্রত্যয়ী থাকুন। এতে আপনার মানসিক চাপ অনেকাংশে লাঘব হবে। মনে রাখবেন মানুষ বিশ্বযুদ্ধ, প্লেগ, ফ্লু, কলেরা, ম্যালেরিয়ার মহামারীর মৃত্যু মিছিল থেকেও আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। অতত্রব এই রোগমুক্তি একদিন হবেই।

১০. স্বাস্থ্যবিধি আগে নিজে মানুন, এরপর অন্যকে সেটি মানতে উৎসাহিত করুন। আতঙ্কিত হয়ে অহেতুক কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘসময় বাসাতে থাকার কারণে এই সময় অহেতুক বা তুচ্ছ কারণে রাগ বেড়ে যেতে পারে। তাই নিজের মেজাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন।

সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট, দ্য গার্ডিয়ান

করোনাতে মানসিক চাপের কারণে যা যা প্রতিক্রিয়া হতে পারে

১. সংক্রমিত হলে হাসপাতাল বা চিকিৎসক কর্তৃক দরকারি চিকিৎসা না পাওয়ার শঙ্কায় থাকা।

২. সংকটকালীন সময়ে সংক্রমণের ভয়ে প্রয়োজনীয় সাধারণ রোগের চিকিৎসাও এড়িয়ে চলা। আতঙ্কিত হয়ে মৃত্যুভয়ে থাকা।

৩. হতাশায় ভোগা কিংবা চাকরি হারানোর ভয়ে চুপসে যাওয়া। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে চিন্তা।

৪. গণমাধ্যমে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সংক্রমণের বা মৃত্যুর খবর দেখে দিশাহীন বোধ করা। তথ্য যাচাই ছাড়াই যে কোনো সংকটকালীন খবরে আতঙ্কিত হয়ে ওঠা।

৫. হতাশা কাটাতে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস বা রুটিন মাফিক ঘুমাতে না পারা।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj