করোনা ভাইরাস রোধে জাতিসংঘের দায়িত্ব

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

বিশ্বে করোনা ভাইরাসের ছোবলে সবাই চিন্তিত। আক্রান্ত দেশগুলো নিজস্ব চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে এ ভাইরাস রোধে চেষ্টা করছে। একেক দেশের চিকিৎসকরা একেক রকম কথা বলছেন। কেউ টিকা-ওষুধ আবিষ্কার করার কথা বলছেন, কেউবা বলেন এক-দেড় বছর সময় লাগবে। এ রকম কথায় বিশ্ববাসী হতাশায় পড়েছে। জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনা ভাইরাস রোধে বিভিন্ন চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ সংস্থাটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, ‘সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সব মানুষের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।’ তবু যেন এ সংস্থাটি হতাশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ট ট্রাম্প ডব্লিউএইচওকে চাঁদা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আবার ডব্লিউএইচওর প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস দিয়েছেন পাল্টা জবাব। মানুষের জীবন নিয়ে এ যেন এক অদৃশ খেলা! ট্রাম্প প্রশাসন দাপটের সঙ্গে বলে, এর টিকা আবিষ্কার করেছে। তার প্রয়োগ করে দেখায় কয়েকজনের শরীরে। কিন্তু তার ফল যে শূন্য তার প্রমাণ মিলে যখন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধমক দিয়ে এক কোটি অ্যান্টি ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ক্রয় করে। এ ওষুধ নাকি করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় উপকার দেয়। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া, তুরস্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেন- এক কথায় যাদের বিশ্বে হোমড়াচোমড়া মনে করা হয় তারা আসলে কি এ প্রাণঘাতী ভাইরাসের চিকিৎসায় সফলতা অর্জন করতে পারবে?

বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘ। তার চিন্তাও হয় বিশ্বব্যাপী। কোনো দেশ অন্যদেশ কর্তৃক আক্রান্ত হলে সম্মিলিতভাবে আক্রান্ত দেশকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে জাতিসংঘ। কোরীয় ও কুয়েত যুদ্ধে এ রকম ভূমিকা জাতিসংঘ পালন করে। ফলে দেশ দুটি রক্ষা পায়। কিন্তু ভাইরাস বা জীবাণু বা অন্য কোনো রোগে কোনো দেশের জনগণ আক্রান্ত হলে সে দেশকে কীভাবে সাহায্য করা হবে? তার কোনো দিকনির্দেশনা খুঁজে পাওয়া যায় না চীনের ক্ষেত্রে। চীনে যখন হাজার হাজার লোক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং কয়েক হাজার লোক মৃত্যুবরণ করে সেখানে ডব্লিউএইচও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তাইওয়ান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ডব্লিউএইচওকে ই-মেইলে করোনা ভাইরাস ব্যক্তি-ব্যক্তি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তাইওয়ানের সতর্কতাকে উড়ে দিয়েছে ডব্লিউএইচও। চীনের তথ্য গোপন করা, এর ক্ষতির ব্যাপ্তির পরিসংখ্যান প্রদানে অনীহা, দুর্বলতা এবং ডব্লিউএইচওর মহামারি হিসেবে ঘোষণা দিতে কার্পণ্য করা- এ মহামারিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। আজ অর্থ ও জীবন দিয়ে তার খেসারত দিতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। এ ঝড় একদিন থামবে। বিশ্ব দাঁড়াবে নতুন উদ্যমে।

রাজনীতিতে সফলতা-ব্যর্থতায় আসবে নতুন মুখ। প্রযুক্তিতে আবিষ্কার হবে ভিন্ন কিছু। শিক্ষায় উদ্ভাবন হবে ঘরে বসে লেখাপড়া ও পরীক্ষার ডিজিটাল পদ্ধতি। গড়ে ওঠবে নতুন সভ্যতা। মানুষগুলো হবে ভাইরাস প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি। আকাশ থেকে ছিটানো হবে প্রতিষেধক। এমনি অনেক কিছু পরিবর্তনে বিশ্ব নিজেকে খুশিতে গা ভাসাতে থাকবে। এমন সময় আবার জন্ম নেবে সুপার ভাইরাস। বিশ্ব হবে দিশাহারা। মানুষ আত্মরক্ষার জন্য আকুতি জানাবে। তাই জাতিসংঘকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ‘রোগ প্রতিরোধে ছাড় নয়’- এ নীতি গ্রহণ করতে হবে। কোনো দেশে ভাইরাস বা মহামারি শুরু হলে প্রথমে সে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে লকডাউন করতে হবে। সে দেশ থেকে কেউ বের হতে পারবে না এবং কেউ ঢুকতেও পারবে না। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘে আইন পাস করা দরকার।

মো. মাহমুদুল আলম
লেখক ও শিক্ষক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj