কৃষি শ্রমিক সংকট : অবিলম্বে বোরো ধান ঘরে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চরমভাবে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। এমতাবস্থায় বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন দেশের লাখ লাখ কৃষক। সময়মতো বোরো ধান কাটতে না পারলে প্রায় ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টন চাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) কৃষি অর্থনীতি বিভাগ। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, করোনার প্রভাবে বিশ্বে খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। ফলে দারুণভাবে বিঘ্নিত হতে পারে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা। তিনি অদূর ভবিষ্যতে গভীর খাদ্য সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে ইতোমধ্যেই সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের বক্তব্যকে ধরে আমাদের স্থানীয় খাদ্যশস্য বোরো ধান যতেœ ঘরে তোলার বিষয়ে সরকারকে জোরালোভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। চলতি বোরো মৌসুমে দেশে ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, হাওরাঞ্চলে এবার মোট বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে। এসব জমির ধান কাটতে মোট শ্রমিকের প্রয়োজন ৮৪ লাখের মতো। কিন্তু সেখানে শ্রমিকের ঘাটতি আছে ১৫ লাখের বেশি, যা মোট প্রয়োজনের ১৮ শতাংশ। সে হিসাবে এই সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৬৬ হাজার অভিবাসী শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে সেখানে। হাওরে প্রতি বছরই শ্রমিক সংকট দেখা যায়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে অন্য জেলাগুলো থেকে শ্রমিক যেতে পারছে না। ফলে এবার শ্রমিক সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নরসিংদী, ঝালকাঠি- এ ৬টি জেলায় কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট রয়েছে। এসব জেলায় ২০ শতাংশের কম শ্রমশক্তি কৃষিতে নিয়োজিত। শ্রমিক সংকটের অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি রয়েছে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার। এসব জেলায় শ্রমশক্তির ২১-২৫ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত। এছাড়া ফেনী, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা, বান্দরবান, কুমিল্লা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কৃষি শ্রমিকের সংকট আছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এদিকে গত ৯ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয় এক নোটিসে ধান কাটার শ্রমিকদের ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাওর এলাকায় আগমন ও চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ’ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, হাওর এলাকায় ধান কাটা চলাকালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি হ্রাসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজের, কৃষকের ও শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালন করতে বলা হয়েছে। শ্রমিক সমন্বয়ের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ কৃষিযন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার বাড়ানোও প্রয়োজন। এসব মেশিন ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষকের কাছে সরবরাহের উদ্যোগ নিতে হবে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শ্রমিক চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি যথারীতি মেনে চলার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন- মাস্ক, গøাভস ইত্যাদি সরবরাহেরও ব্যবস্থা করা জরুরি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj