সুচি হোক ধরা…

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০

অশুভ শক্তিকে বিনাশের প্রত্যয়ে বাঙালি নতুন বছরকে বরণ করে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। রমনার বটমূলে গানে, নাচে, আবৃত্তিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় বাঙালি। প্রতিবারের মতো এবারো এসেছে নতুন বছর, ক্যালেন্ডারের পাতায় জ্বলজ্বল করেছে পহেলা বৈশাখ। কিন্তু সারাবিশ্ব যখন করোনা নামক এক অশুভ শক্তির আতঙ্কে ঘরবন্দি, তখন বাঙালি প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় নেচে, গেয়ে বরণ করতে পারেনি প্রাণের বৈশাখকে। তবুও বারো মাসে তেরো পার্বণের জাতি বসেছিল না। ঘরবন্দি সময়েও আধুনিক সময়ের আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে মেতেছিল নতুনের আগমনে।

কেমন ছিল নতুন বছরকে বরণ করার নতুন পদ্ধতি? আর নতুন বছরের কার কী প্রত্যাশা? সে সব কথা জানালেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।

তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন শাকিল মাহমুদ ও রাব্বানী রাব্বি

মহামারি যেন দ্রুত কেটে যায়

ওমর সানী, চিত্রনায়ক

গত পাঁচ/সাত বছরে আমার পহেলা বৈশাখ বাসাতেই কেটেছে। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দুষ্কর্ম কয়েক বছর ধরে চলে এসেছে, তাতে করে বাইরে গিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার মতো পরিবেশ নেই। আর এসব দেখে আমি নিজেই এই দিনটাতে কোথাও যাই না। ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে পহেলা বৈশাখ এলেই মেলা হতো। কয়েক গ্রামের মানুষজন মিলেমিশে যে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করত তা তো এখন আর নেই। সুতরাং এবার গৃহবন্দি সময়ে পহেলা বৈশাখ গত পাঁচ/সাত বছরের চেয়ে আলাদা নয়। এতে করে খুব একটা কষ্ট পেয়েছি, তাও নয়।

নতুন বছরে আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিকল্পনা করে কি হবে? দেশের সরকারে-ই তো পরিকল্পনা নেই! আমার মতো সাধারণ মানুষ আর কি পরিকল্পনা করবে! তবে নতুন বছরের প্রত্যাশা একটাই, করোনার ফলে বিশ্বে যে মহামারি চলছে- তা যেন দ্রুত কেটে যায়।

পৃথিবী করোনামুক্ত হোক

চঞ্চল চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী

‘দেশ এবং পৃথিবী করোনামুক্ত হোক’- এটাই এখন প্রত্যাশা। আমাদের দেশে তো দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। এর জন্য অবশ্য আমরা নিজেরাই দায়ী, অসচেতনতা। অধিকাংশ মানুষই সচেতন না। আমার মনে হয়, কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ সচেতন না। আর এই সংকট শেষে আমি দেশের মানুষকে বলব, আমরা সবাই তো প্রকৃতির সন্তান। কিন্তু প্রকৃতির প্রতিই আমরা সবচাইতে বিরূপ আচরণ করছি। যখন যা খুশি অত্যাচার করেছি। আমি মনে করি, এই করোনা হলো প্রকৃতির এক ধরনের প্রতিশোধ। সেই জায়গা থেকে নিজেদের মতো করে স্বার্থপরতায় ডুবে যাওয়া মানুষকে করোনা এসে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে যে, তার জীবনে কোনটা ভুল, কোনটা পাপ, কোনটা অন্যায়? এর আগে সেই চিন্তা করার সুযোগও ছিল না, আমরা এত ব্যস্ত! এখন সেই সুযোগটা এসেছে নিজের সঙ্গে নিজের হিসাব মেলানোর; এখন প্রত্যাশা থাকবে সেই পাপ, অন্যায়, প্রকৃতির সঙ্গে বৈরী আচরণগুলো কাটিয়ে সুস্থ-সুন্দর একটা পৃথিবী যেন আমরা গড়তে পারি।

সবাইকে নিয়ে বাঁচতে চাই

ফারজানা ছবি, অভিনয়শিল্পী

প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে আমরা বেশ আনন্দ করেই উদযাপন করি, ঘোরাঘুরি করি। এ বছর যেহেতু বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না আর বর্তমানে যে দুর্যোগ চলছে, তাতে বাসায় খুব খাবার-দাবারেরও আয়োজন করা হয়নি। একেবারেই যা না করলে নয়, যেমন ইলিশ মাছ ভাজা। যেহেতু আমরা বাঙালি, তাই যতটুকু না করলেই নয় ততটুকু দিয়েই ঘরোয়াভাবে এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছি। এই মুহূর্তে শুধু আমার নয়, সবারই একটিই প্রত্যাশা। ঝড়টা তাড়াতাড়ি শেষ হোক। কাছে-দূরে যারা আছে তাদের কাউকে যেন হারাতে না হয়। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে পৃথিবীতে বাঁচতে চাই। সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রত্যাশা।

সুন্দর পৃথিবীতে একত্রিত হতে চাই

রাহুল আনন্দ, সঙ্গীতশিল্পী

আমরা তো বাঙালি জাতি, বারো মাসে তেরো পার্বণের জাতি। হুট করে এমন উৎসব থেকে দূরে সরে থাকতে পারব না। তাই ফেসবুক লাইভে যার যার মতো করে সবাই নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে।

আমি প্রতিদিনই গান করছি। সচেতনতামূলক গান, এ মুহূর্তে সম্মুখে যারা লড়ছে তাদের স্যালুট জানিয়ে গান করছি। সেগুলো মানুষ শুনছে, শেয়ার করছে।

নতুন বছরের প্রত্যাশা একটাই- সবাই ভালো থাকুক। এ অবস্থা কেটে যাক। সবাই মিলে একটি সুন্দর পৃথিবীতে একত্র হতে চাই।

ভালো মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই

অর্চিতা স্পর্শিয়া, অভিনয়শিল্পী

আমার কাছে এবারের ঘরবন্দি বৈশাখ আলাদা কিছু মনে হয়নি। কেননা আমি বরাবরই একটু ঘরকুনে। বাসাতেই থাকি সব সময়। তাই বৈশাখ বলুন বা ঈদের সময়- বাসাতেই কাটে। তবে এবারের বৈশাখে আমার সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, সব বন্ধু এক হতে পেরেছি। লকডাউনের ফলে পহেলা বৈশাখের দিন সব বন্ধু ভিডিও চ্যাটিংয়ে এক হয়েছি। যেটা অন্য সময়ে কখনো হয়নি। কয়েকজন বন্ধু বা একটি সার্কেলের সঙ্গে দেখা করেই দিন শেষ হয়ে যায়। যার ফলে এবারের বৈশাখ আমার কাছে একটু আলাদা। নতুন বছরের প্রত্যাশা বলতে, সুন্দর একটা পৃথিবী চাই। লকডাউনে শেষে আমরা যখন সবাই বের হবো তখন যেন ভালো মানুষ হয়ে বের হতে পারি।

পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠুক

আরিফিন শুভ, চিত্রনায়ক

নববর্ষে একটাই চাওয়া ‘পৃথিবী আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক’।

এর বেশি, এর থেকে কম আর কিছুই চাওয়ার নেই। পৃথিবীর দিকে তাকালে বুঝা যায় যে, খারাপ সময় এখনো আসেনি, আসবে। খাদ্যদ্রব্য, বাসস্থান অর্থাৎ মানুষের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলোর আকাল এখনো আসেইনি। আল্লাহর কাছে অনুনয় করে বলি সেই অবস্থার আগেই যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। আর এর জন্য আমাদের দুইটা জিনিস করণীয় বলে আমার মনে হয়।

এক, এমন একটা সময়ে আমরা আছি, একটুখানি অসচেতনতায় অনেক মূল্য দিতে হতে পারে আমাদের। তাদের বলব, এখনই সচেতন হোন, আমরা অনেকটাই ঠেকাতে পারব। দুই, খারাপ সময় যেটা আসবে তার জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। সময় যতই খারাপ হোক না কেন সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভালো-মন্দ, ডান দিক-বাম দিক, সাদা-কালো বুঝার ক্ষমতা দিয়েছে, আমাদেরই দায়িত্ব হবে- সুস্থ থেকে দেশ ও সমাজকে একটা সুন্দর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

আমরা ইতোমধ্যে গোলকধাঁধায় পড়ে গিয়েছি। এখন আর চাপাবাজি করে লাভ নেই, কাজ করতে হবে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj