সারাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা : সতর্ক থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা করব

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০

দেশের সর্বত্র প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা সংক্রমণের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। সর্বশেষ নতুন ১৫ জন মৃত্যুর ফলে ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। গতকাল ২৬৬ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৮৩৮ জনে। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর এটিই একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমগ্র বাংলাদেশকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সরকারি নির্দেশাবলি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। এমন অবস্থা দেখে স্পষ্ট হচ্ছে, সামনে করোনা মোকাবিলা একটা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এই চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য যে সক্ষমতা ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা আমাদের সামান্যই রয়েছে। এরপরও সরকার, প্রশাসন ও জনগণ মিলে এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হবে। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এসব কারণে সংক্রামক রোগ ২০১৮-এর ১১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। জনসাধারণকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে কঠোরভাবে সেগুলো অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, জনগণকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না। এসব নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রথমদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মানুষজন কম বের হলেও এখন রাজধানীতে মানুষ চলাচল বেড়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের চরমভাবে খেসারত দিতে হতে পারে। নিতান্ত প্রয়োজনে তো বটেই, কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ বেরিয়ে আসছেন ঘর থেকে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বলছেন, পেটের প্রয়োজনে বের না হয়ে উপায় নেই। অতিদরিদ্ররা দলবেঁধে সাহায্যের আশায় বসে পড়ছেন মোড়ে মোড়ে। নানা ছুতায় রাস্তায় ভিড় করছেন তরুণরা। এমনকি কেউ কেউ ঘুরতে বের হয়ে গেছেন সদলবলে। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্র দেখা গেছে শত শত মানুষ। রাজধানীর সড়কগুলোতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চলছে। গ্রামে দলবেঁধে মানুষ চা দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। কিশোর যুবকরা মাঠে ফুটবল খেলছে। এমন চিত্র প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসছে। অবস্থা এমনই মানুষকে ঘরে রাখতে পারাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমজীবী ও প্রান্তিকজনের খাদ্য সহায়তাসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু নিশ্চিতকল্পে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। সরকারের গৃহীত সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বহু উন্নত-শক্তিশালী দেশ বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় খুব সহজেই বোঝা যায়, এই ভাইরাসের সংক্রমণ কতটা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগে আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj