শিশুর জলবসন্ত বা চিকেন পক্স

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০

ডা. স্বপ্নীল প্রহলাদ

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স যে কোনো বয়সে হতে পারে, তবে শিশুরা থাকে বেশি ঝুঁকিতে। জলবসন্তের প্রকোপ এখনো থাকলেও গুটিবসন্ত অনেক আগেই নির্মূল হয়ে গেছে এই পৃথিবী থেকে। এটি ভেরিসেলা জস্টার ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে।

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স একটি সংক্রামণ রোগ। এ রোগে জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ, মাথা ব্যথা, শরীর ও হাত-পা ব্যথা এমনকি পিঠেও ব্যথা, সর্দি-কাশি ও শরীরে ঘামাচির মতো দানা উঠে। তারপর দানাগুলো বড় হতে থাকে এবং ভেতরে পানি জমে। এ রোগে শরীর দ্রুত অনেক দুর্বল হয়ে যায়।

কোনো সুস্থ ব্যক্তি এই জলবসন্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে এতে আক্রান্ত হতে পারে। গুটি শুকিয়ে কালো হয়ে যাওয়া চামড়ায় জীবাণু থেকে যায় এবং এটা খুবই সংক্রামক। অনেকেই তখন এগুলো চুলকায় ও টেনে তুলে ফেলে যা একেবারেই উচিত নয়।

শরীরের এই ফুসকুড়ি শুকানো এবং ঝরে না যাওয়া পর্যন্ত অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ রোগীকে আলাদা রাখা ভালো। তবে স্কুল-পড়–য়া বাচ্চাদের এই ফুসকুড়ি ওঠার ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত স্কুলে যাওয়া বন্ধ রাখা উচিত।

জন্মের বারো মাস পর থেকে যে কোনো বয়সে জলবসন্তের টিকা নিলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ রোগ সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে থাকে। তবে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ও চুলকানির জন্য এন্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যেতে পারে।

আর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে পাঁচ দিন এন্টি-ভাইরাল দেয়া যায়। এ সময় রোগীর পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাক-সবজি, ফল-মূল সব কিছুই বেশি করে খেতে হবে।

যদি জন্মের পাঁচ দিন আগে অথবা জন্মের দুই দিন পরে মায়ের চিকেন পক্স হয়, তবে সেক্ষেত্রে বাচ্চাকে ভেরিসেলা জস্টার ইমিউনোগ্লোবিন দিতে হবে। কারণ এই রোগের কিছু ভবিষ্যৎ জটিলতা রয়েছে।

তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন নিয়মিত গোসল শেষে শরীর ঘষে মুছা যাবে না, আলতো করে মুছে নিতে হবে। আর রোগীর ব্যবহৃত পোশাক, বিছানার চাদর ও শোবার ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

শিশু বিভাগ, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj