বটমূলে বোমা হামলার ১৯ বছর : রাষ্ট্রের তৎপরতা জরুরি

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০

রমনা বটমূলের বোমা হামলা দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি। রমনার বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে কাপুরুষোচিত বোমা হামলা জাতীয় জীবনের একটি কলঙ্কিত ঘটনা। বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা ১৯ বছরেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া দুঃখজনক। হত্যা মামলায় রায় হলেও হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) ও আসামিদের আপিলের শুনানি এখনো শুরু হয়নি। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে মামলাটির বিচারকাজ চলছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট সাক্ষী ৮৪ জন। এর মধ্যে সবশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির তৎকালীন পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফের জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে। করোনার কারণে ঘোষিত ছুটি শেষ হলে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে শেষ হবে এ মামলার বিচারকাজ। এরপর বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বোমা হামলা চালানো হয়। বর্বরোচিত ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান আরো একজন। এ ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন। হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হলেও অন্য মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর দুই মামলায় ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দুটি মামলারই অভিযোগপত্র একসঙ্গে দাখিল করা হয়। পরে বিচারের জন্য মামলা দুটি ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যায়। ওই আদালতে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পৃথকভাবে মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৪ সালের ২৩ জুন বিচারিক আদালত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। এরপর ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলের শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। অন্য মামলায় মুফতি আব্দুল হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। মামলায় সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ চার আসামি এখনো পলাতক। এ ঘটনায় হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিল হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আশা করব এ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে এবং সে ক্ষেত্রেও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বোমা হামলা মামলার রায় কার্যকর অপরাধীদের প্রতি হুঁশিয়ারি হিসেবে বিবেচিত হবে। যারা বোমা হামলায় আহত হয়ে দুঃস্বপ্নকে সঙ্গী করে বেঁচে আছেন, তাদের জন্যও স্বস্তির অনুভূতি এনে দেবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj