এবার ডিজিটাল বাংলা বর্ষবরণ

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০

শেফালী সোহেল

শহুরে বর্ষবরণ কিছু আনুষ্ঠানিক বাতাবরণে পালিত হয় ও হয়ে আসছে। ১৯৬৭ সালে রমনা বটমূলে প্রথমবারের মতো ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রভাতী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাদের এই আনুষ্ঠানিকতা। পাকিস্তানি জান্তা সরকার, স্বৈরাচারী শাসনামল, এমনকি বোমা হামলার পরও বন্ধ হয়নি বাঙালির বর্ষবরণের সবচেয়ে বড়- বৈচিত্র্যময় আয়োজনটি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ছায়ানটের প্রভাতী এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে না। লাল পাড়ের শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে সবাই অংশগ্রহণ করবে না। এই তীর্থ এবার জনশূন্য থাকবে। এদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রাও পহেলা বৈশাখের একটি চমৎকার অনুষঙ্গ। ‘এসো গাই মঙ্গলের জয়গান’ এই আওয়াজে ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রা। পরে ১৯৯৫ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে বের হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। এর ফলে পহেলা বৈশাখের বিশ্বায়ন হয়েছে ও বিশ্বজনীন রূপ পেয়েছে। এই শোভাযাত্রাও এবার করোনার করাল গ্রাসে হবে না। আগের মতো মহাসমারোহে দিনটি উদযাপন না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে মুক্তিযুদ্ধের পর এই প্রথম এমন পহেলা বৈশাখ আসছে বাংলাদেশে। ঘরবন্দি সময়ে তবু থেমে থাকবে না উৎসব। হবে অনলাইনে।

‘উৎসব নয়, সময় এখন দুর্যোগ প্রতিরোধের’- এ প্রতিপাদ্যে সীমিত আকারে এবারের বর্ষবরণের আয়োজন করছে ছায়ানট। আর এটি করা হবে ডিজিটাল উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এছাড়া ছায়ানটের ইউটিউব ও বিটিভিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ আয়োজন স¤প্রচার করবে। বিটিভির সহায়তায় আগামীকাল সকাল ৭টা থেকে ১ ঘণ্টার একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। অন্যদিকে, জনসমাগম না করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’ প্রতিপাদ্য করে এবারে বর্ষবরণের আয়োজন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। প্রতিবারই মূল প্রতিপাদ্যের উপর একটি পোস্টার বের করা হয় অনুষদ থেকে। এবার সেই পোস্টারটি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj