আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর : পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হোক

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এতে কিছুটা হলেও জাতির গøানিমুক্তি ঘটেছে। তবে এখনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন ঘাতক বিদেশে পালিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। সেসব কিন্তু আজো উন্মোচিত হয়নি, শনাক্ত হয়নি হত্যার ষড়যন্ত্রকারীরা, নেপথ্য নায়করা। স্বাধীন বাংলার স্থপতিকে হত্যার পর ক্ষমতা দখলকারীরা খুনিদের যাতে বিচার না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে। স্বঘোষিত খুনিরা পরবর্তী সময়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে থাকার সুযোগ পায়। এদের কেউ কেউ বিদেশে মিশনে চাকরি পেয়ে পুরস্কৃত হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিলের আগ পর্যন্ত ২১ বছর স্বঘোষিত খুনিরা বিচারের আওতা থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছিল। অনেক দেরিতে ও পাহাড়সম বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ২০১০ সালে ২৮ জানুয়ারি খুনিদের মধ্যে কারাগারে আটক পাঁচ খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), এ কে বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দিনকে (আর্টিলারি) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া অন্য পাঁচ খুনি বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় তাদের দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এর আগেই অবশ্য আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা গেছে বলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জোট সরকার ঘোষণা দেয়। এই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে দণ্ড কার্যকর করতে না পারাটা জাতির জন্য হতাশার। সরকার বলছে, নানাভাবে চেষ্টা করছে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর খুনি আবদুল মাজেদকে হঠাৎ গ্রেপ্তারের খবর আসে। পুলিশের দাবি ৬ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে ঢাকার মিরপুর সাড়ে ১১ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। পরদিন দুপুরে আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত। আদালতের নির্দেশে মাজেদকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। দুই যুগের বেশি সময় আত্মগোপনে ছিল খুনি মাজেদ। ২৩ বছর কলকাতায় ছদ্মনামে পলাতক ছিল সে। আমরা আশা করব, সরকার বিদেশে পলাতক বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস জোরদার করবে। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা শুধু কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের কাজ নয়, এর নেপথ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কিছু তথ্য উঠে এসেছে দেশি-বিদেশি গবেষক-সাংবাদিকদের লেখায়। জোর দাবি উঠেছে একটি কমিশন গঠন করে এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার এবং চক্রান্তকারীদেরও বিচারাধীন করার। আমরা চাই সরকার এ লক্ষ্যে দ্রুত উদ্যোগ নিক। জাতীয় নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে সুরক্ষার জন্যই দরকার মুজিব হত্যা ষড়যন্ত্রের উন্মোচন ও তার মূলোৎপাটন।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj