বাড়িতে সময় কাটুক অনলাইনে…

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০

আশরাফুল ইসলাম রানা

এতদিন আধুনিক প্রজন্মের ক্রমশ অসামাজিক হয়ে যাওয়ার পেছনে কাঠগড়ায় তোলা হতো যে ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে, ঘরবন্দি দশায় সে-ই আজ রীতিমতো সময় কাটানোতে সঙ্গী!

করোনার সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন সবাই। সেটাই স্বাভাবিক। এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মনের ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ। আতঙ্ক, অহেতুক রাগ বা অবসাদের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। কিন্তু যে কোনো বিপদ মোকাবিলার সময় চাই ধৈর্য, দায়িত্বশীল আচরণ আর সাহস। এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মানুষ আজ ঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘসময় বাসাতে থাকার কারণে এই যেমন বিরক্ত লাগা, মন খারাপ লাগা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইনে থাকার কারণে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স তথা সাংসারিক বিবাদের পরিমাণ বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই জরুরি সময়ে যাতে পরিবারের মধ্যে এই ধরনের কোনো সমস্যা না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখা দরকার। বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে ব্যস্ত সময় গঠনমূলকভাবে সময় পার করতে পারেন অনলাইনের নানা মাধ্যমে। প্রযুক্তির এই যুগে নানান ধরনের গেজেট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসই হোক অবসরের অনুসঙ্গ।

মিউজিক বা মুভি দেখুন অনলাইনে

কাজের চাপে আর শোনা বা দেখা হয় না শখের কোন মুভি বা মিউজিক? এখন একটা চমৎকার সময় শখের মুভি বা জনপ্রিয় টিভি সিরিজগুলো দেখে নেবার। ভাল লাগা সব মিউজিক বা মুভির জন্য অনলাইনে রয়েছে নানা পেইড কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম। নেটফ্লিক্স, আইফিøক্স, হৈচৈ, বায়োস্কোপ, ফ্রি ফ্লিক্স ছাড়াও অ্যানড্রয়েড অ্যাপ স্টোরে পাবেন বিভিন্ন মুভি বা মিউজিক অর্গানাইজ প্ল্যাটফর্ম। এসব অ্যাপস ডাউনলোডের আগে অবশ্যই রেটিং এবং ডাউনলোডের সংখ্যা দেখে নিবেন। পাশাপাশি ইউটিউবেও পাবেন দেশি বিদেশি লক্ষ লক্ষ ভিডিও ও অডিও কনটেন্ট , যা হতে পারে আপনার অবসরের সঙ্গী। তবে মুভি বাছাইতে অবশ্যই আপনার সঙ্গী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে যোগাযোগ

আমাদের তো কত বন্ধুই থাকে। ব্যাস্ততার কারণে এদের কয়জনের সাথে আমরা কথা বলি? হয়ত ফেসবুকের বন্ধু তালিকার এক কোনে পড়ে আছে, খবর নেয়া হয় না। ফোনবুকে নম্বর আছে, কল করার সময় হয় না। এখনি সময় পুরনো সম্পর্কগুলোকে ঝালিয়ে নেবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যাবহার করে তাদের সাথে কথা বলুন। দেখবেন কথা বলে, পুরনো স্মৃতিগুলো এক সাথে হাতড়ালে ভালই লাগবে। কথা বলার জন্য ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসআপ, ভাইবার, ইমো বেশ জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন। ভিডিও বা অডিওতে গ্রুপ কলের জন্য ব্যবহার করতে পারেন সহজেই।

বই পড়–ন ট্যাব বা ফোনে

সময় কাটানোর আরেকটি চমৎকার উপায় হল বই। এক কাপ কফির সাথে একটা ভাল বই আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। এক্ষেত্রেও যেসব বই বেশ বড় সেগুলোকে প্রাধান্য দিতে পারেন। পড়ে ফেলতে পারেন প্রিয় লেখকের কিছু উপন্যাস বা প্রিয় কবির কিছু মহাকাব্য, যার যেটা ভাল লাগে। অনলাইনে পছন্দের বইয়ের পিডিএফ ফরম্যাট পেয়ে যাবে। মোবাইলে বা ট্যাবে ইনস্টল করে নিতে পারেন বই পড়ার নানা অ্যাপসও।

মেডিটেশন বা ব্যায়াম

সব সময়ে যে আপনাকে কোন কিছু উপভোগ করতে হবে এর কোন মানে নেই। নিজের মটিভেশন ও মেধা বৃদ্ধির জন্যও কিছু কাজ করা যেতে পারে। মেডিটেশন তার মধ্যে একটা। এছাড়াও । লম্বা সময় ঘরে বসে থাকার কারনে শরীরের প্রয়োজনীয় যে মুভমেন্ট সেটা হচ্ছে না। তাই নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এছাড়া নারীরা তাদের রূপচর্চা সংক্রান্ত কিছু কাজ করে নিতে পারেন। নিজেকে সুন্দর দেখলে মন মেজাজ এমনিতেই ভাল থাকবে, একথা বলাই বাহুল্য। কিভাবে মেডিটেশন করবেন বা করবেন রূপচর্চা বা শিখবেন সুস্থ থাকার স্বাস্থ্য টিপস ও ব্যায়াম তা জানতে অনলাইনে ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে নিতে পারেন। সাবক্রাইব করতে পারেন নানা প্রয়োজনীয় ইউটিউব চ্যানেল।

লিখতে পারেন ব্লুগ

লেখালেখি হতে পারে সময় পার করার অন্যতম সেরা উপায়। অভ্যাস নেই? সমস্যা কি, চেষ্টা করার সময় তো এটাই! আপনার ব্লুগটি হতে পারে করোনা ভাইরাস নিয়ে। অথবা আপনি আপনার পছন্দের যেকোন বিষয়েও লিখতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখতে পারেন বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক ফিচার, বিশ্লেষণও। এছাড়া নিজের ব্লুগ পেইজ খুলতে পারেন ডড়ৎফচৎবংং, ইষড়মমবৎ, গবফরঁস সহ এরকম অনেক চমৎকার প্ল্যাটফর্মে যা একদম ফ্রি।

পেইন্টিং করুন

যাদের এই শখ আছে তারা তো করবেনই। যাদের শখ নাই তাদেরও চেস্টা করায় কোন দোষ নাই। আঁকানো একটা দারুন ব্যাপার। আঁকার মাধ্যমে আপনি নিজের একটা জগৎ তৈরি করব ফেলতে পারেন। রং পেন্সিল নেই? তাতে কি? ল্যাপটপে, ফোনে বা ট্যাবে নামিয়ে নিন প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা অ্যাপস। ‘লান হাউ টু ড্র অ্যান্ড স্কেচ’ অ্যাপটি থাকলে ছবি আঁকা আর জটিল মনে হবে না। ধাপে ধাপে একটি ছবি আঁকা কমপ্লিট করতে পারবেন।

ভিডিও গেমস খেলুন

ভিডিও গেমসের ব্যাপারে যাদের আসক্তি, তাদের এই কথা মনে করিয়ে দেবার কোন প্রয়োজন নেই, জানি। তবে যারা কখনো খেলেননি বা খেলার ইচ্ছা থাকলেও সময় হয় না, তাদের জন্য এটা হতে পারে এক রঙিন সময়। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। আপনার গেমস নিয়ে ব্যাস্ততা যেন পরিবারের অন্য সদস্যদের নিঃসঙ্গ না করে দেয়। অনলাইনে বিভিন্ন গেইমস এখন খেলছে তরুণ প্রজন্ম।

পাজল ভিত্তিক গেমস খেলুন

এই ধরনের খেলাগুলো আপনার মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখবে। এই খেলার সময় চিন্তা ভাবনা করতে হয়, তাই সময় কিভাবে কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না! তাছাড়া এটি পরিবারের সবাই কে নিয়ে অংশ নেয়ার মত একটি খেলা। বিভিন্ন খবরের কাগজে এই পাজল গুলো দেয়া থাকে। এছাড়া অনলাইনেও ফ্রি খেলতে পারবেন।

ইউটিউব ভিডিও তৈরি করুন

আপনি যেই হোন না কেন, কোন না কোন বিষয়ে আপনি অন্যদের চাইতে ভাল ধারণা রাখেন। যেহেতু আপনি সেই বিষয়ে দক্ষ, সেহেতু আপনি সেই বিষয় অন্যদের শিখাতে পারবেন। এই বিষয়ের উপর তৈরি করে ফেলতে পারেন কিছু ইউটিউব ভিডিও, চালু করতে পারেন নিজের ইউটিউব চ্যানেল। এতে আপনার সময়ও ভাল কাটবে, নিজের জানা শোনা গুলোও আরেকটু ঝালাই করে নেয়া হবে। কে কি ভাবল বা আপনাকে যথেষ্ট স্মার্ট দেখাল কিনা, এগুলো ছোট খাট ব্যাপারে ভাববেন না। ভিডিও এডিটিং না পারলে ফ্লিমওরা সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিখে নিতে পারেন সহজেই।

পরিবারকে একান্ত সময় দিন

সব কাজ দুরে রেখে পরিবারের জন্য সময় বের করুন। তাদের সাথে ভালভাবে কথা বলুন। কারো কোন সমস্যা থাকলে সেটা বুঝার চেস্টা করুন। নিজেদের মধ্যে দুরত্ব কমিয়ে আনার এটা একটা মোক্ষম সুযোগ। বাবা, মা সাথে থাকলে সময় দিন। দুরে থাকলে নিয়মিত ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে খোঁজ খবর নিন। আপনার সব থেকে আপনজন কিন্তু আপনার পরিবার।

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj