টেক বিশ্ব : করোনায় যা করছে তারা

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০

করোনার এই সময় বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সবাই এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে কাজ করছে করোনা প্রতিরোধে। বৈশ্বিক এই মহামারী প্রতিরোধের উদ্যোগে কেউ কারো থেকে কম নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকে এগিয়ে এসেছে অনুদান নিয়ে, অনেকে কাজ করছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সেটি নিজেদের কর্মী ও অন্য মানুষদের জন্য। আবার কেউ কেউ অভিনব কিছু উদ্যোগ নিয়েছে যাতে করোনার এই সময়ে তাদের বিশাল কর্মীবাহিনী কোনোভাবেই বিচলিত না হয়ে পড়ে। করোনায় লকডাউনে সবাই যখন অফিস করছে ঘরে বসেই, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো সে কাজ আরো সহজে কিভাবে করা তা নিয়েও কাজ করছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বের কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের করোনার এই সময়ের খবর জানাচ্ছেন- নাজমুল হক ইমন

এগিয়ে এসেছে টুইটার

করোনা মহামারী মোকাবেলায় ১০০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি। নিজের টুইটারে হ্যান্ডেলে এ ঘোষণা দিয়েছেন ডরসি। তিনি জানিয়েছেন, এ অর্থ তার মোট সম্পদের প্রায় ২৮ শতাংশ। তবে কভিড-১৯ যুদ্ধে এ অর্থ তিনি কোথায় দেবেন সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। যেখানে শুরু থেকেই ভেন্টিলেটর এবং চিকিৎসা কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) সঙ্কট চলছে এবং ইদানিং সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থাও নাজুক। এ পরিস্থিতিতে জরুরি বিবেচনায় ১০০ কোটি ডলার দান করার ঘোষণা দিলেন ডরসি। তার প্রতিষ্ঠিত পেমেন্ট অ্যাপ স্কোয়ারের শেয়ার বিক্রি থেকেই এ অনুদান দেবেন এবং স্টার্ট স্মল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেই অর্থ বিতরণ করা হবে। এ ব্যাপারে ডরসি বলেছেন, অনুদানের অর্থ দিতে তিনি স্কোয়ারের শেয়ার ব্যবহার করছেন কারণ এখানে টুইটারের চেয়ে বেশি শেয়ারের মালিক তিনি। শেয়ারগুলো তিনি ক্রমান্বয়ে বিক্রি করবেন। কভিড-১৯ মহামারী শেষ হওয়ার পর যদি অর্থ বেঁচে যায় তাহলে সেই অর্থ কিশোরী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এবং সর্বজনীন মৌলিক আয় বিষয়ে গবেষণায় ব্যয় করা হবে। এদিকে এই মহামারীর সময় প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্য বিলিয়নেয়াররাও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এরই মধ্যে ৩ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি মূলত কভিড-১৯ চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে এককালীন এ অর্থ দিতে চান। ইকমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজোস এই লকডাউনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ফুডব্যাংকে দিয়েছেন ১০ কোটি ডলার। আর অ্যাপলের সিইও টিম কুক গত মার্চে ইতালিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন।

কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবায় অ্যাপল

কভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য করোনা থেকে আত্মরক্ষার ‘ফেস শিল্ড’ বা মুখাবয়ব ঢাকার আবরণ সরবরাহ করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক ফেস শিল্ডের ডিজাইন, উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাদের অভ্যন্তরীণ একাধিক টিম কভিড-১৯ মোকাবেলায় নিয়োজিত প্রথম সারির বীরদের সমর্থনে কঠোর পরিশ্রম করছে। অ্যাপলের তৈরি ফেস শিল্ড সংযোজন করতে ২ মিনিট সময় লাগে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা পণ্যটির বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। টিম কুক বলেন, তারা প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ পিস ফেস শিল্ড সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় স্থানে ফেস শিল্ড সরবরাহে মার্কিন স্বাস্থ্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ চলছে। ফেস শিল্ডের সরবরাহ পরিসর খুব দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গুগলের অনুদান

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ আক্রান্ত বাড়ছে। বৈশ্বিক এ সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ৮০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে গুগল। বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্টটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই এ অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে সুন্দর পিচাই বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্বের শতাধিক সরকারি সংস্থাকে কভিড-১৯ বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার এবং সচেতনতামূলক সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেয়া বাবদ ২৫ কোটি ডলার দেবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে মানুষ এখন ঘরবন্দি জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে গুগল প্লাটফর্মের অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৩৪ কোটি ডলার অনুদান দেবে গুগল। পাশাপাশি ২ কোটি ডলার ত্রাণ তহবিল এবং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সুন্দর পিচাই অনুদানের বিষয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা আশা করছি, গুগলের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের গ্রাহকদের সংস্পর্শে থাকতে সহায়তা করবে অনুদানের অর্থ। শুধু গুগলই নয়, একাধিক প্রযুক্তি জায়ান্ট তাদের বিস্তৃত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সম্পদ বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কাজে লাগাচ্ছে। গুগল এরই মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঝুঁকি এড়ানো, সংক্রমিত হলে করণীয় এবং প্রয়োজনীয় অন্য তথ্যসংবলিত একটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে, যা ব্যবহারকারীদের করোনা ভাইরাসের উপসর্গ পরীক্ষার সুযোগ দেবে। গুগলের পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুবিধা দেয়া হচ্ছে, যাতে মানুষের কাছে করোনা ভাইরাস নিয়ে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো ফেসবুকে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়নি। তবে করোনা ভাইরাস ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন ও হোয়াটসঅ্যাপে হেলথ অ্যালার্ট অ্যাকাউন্ট চালু করেছে। এ ছাড়াও ২ কোটি ডলারের ক্লাউড ক্রেডিট দেবে গুগল।

টিকটকের প্রতিশ্রæতি

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ভয়ঙ্কর এক সময় পার করছে পৃথিবী। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নানামুখী সঙ্কটও। বিশ্বব্যাপী প্রতিনিয়ত বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। সেসঙ্গে দরিদ্র ও নি¤œবিত্ত মানুষের জীবিকা নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অবশ্য এরই মধ্যে করোনাকালে সংকট নিরসনে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকেই। যে তালিকায় এবার নাম লিখিয়েছে জনপ্রিয় মোবাইল ভিডিও অ্যাপ প্রতিষ্ঠান টিকটক। তারা করোনা মোকাবেলায় ত্রাণ তহবিলে ২৫০ মিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রæতির কথা জানিয়েছে। টিকটকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ফান্ড মূলত সামনে থেকে লড়াই করা চিকিৎসা কর্মী, ডাক্তার ও করোনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যবহার করা হবে। এর আগে গুগল, ফেসবুক ও নেটফ্লিক্সের পাশাপাশি মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং টুইটারের মতো টেকনোলজি জায়ান্টরাও একই রকম উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেয়।

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj