করোনা বিপর্যয় : বিনামূল্যে টাইম ট্র্যাকিং করোনা

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০

বিপর্যয়ে এগিয়ে এসেছে (ধঢ়ঢ়ষড়ুব.পড়স) অ্যাপলয়ি ডটকম। প্রতিষ্ঠানটি কর্মক্ষেত্রে সময় অপচয় রোধে এবং করোনার বিপর্যয়ে বাংলাদেশি সব প্রতিষ্ঠান যেন বাসা থেকে কাজ করতে পারে, সে কারণে কর্মীদের টাইম ট্র্যাকিং করার প্রিমিয়াম সফটওয়্যার দিচ্ছে বিনামূল্যে। অ্যাপলয়ি বর্তমানে ২২ জন কর্মীর একটি বাংলাদেশি স্টার্টআপ যাদের তৈরি করা টাইম ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করছে ৬৬টির বেশি দেশের প্রায় ৬২৫টি কোম্পানি। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান যাদের কর্মী সংখ্যা ৫০ এর নিচে তাদের করোনা ভাইরাসকালীন অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে অ্যাপলয়ি আগামী জুন পর্যন্ত সমস্ত প্রিমিয়াম প্ল্যান ফ্রি দেবে।

ফোর্বসের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে তাদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে প্রতিদিনের কর্মঘণ্টার প্রায় একঘণ্টা সময় নষ্ট করেন। মাসের শেষে তা গিয়ে কর্মীপ্রতি ২৫ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকে। অধিকাংশ সময়েই কর্মীরা ফেসবুক ব্রাউজ, ইউটিউব ভিডিও দেখা এমনকি গেমস খেলার মাধ্যমে কর্মঘণ্টার সঠিক ব্যবহারে ব্যাঘাত ঘটান। টাইম ট্র্যাকিং ও কর্মী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অ্যাপলয়ি (ধঢ়ঢ়ষড়ুব.পড়স) কর্মক্ষেত্রে সময় অপচয় রোধ করবে এবং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দিবে। অ্যাপলয়ি কর্মীদের মনোসংযোগে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী জিনিসগুলো থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে ও সময় অপচয় হ্রাস করবে।

অ্যাপলয়ি’র সিইও শেখ সৌরভ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও অন্যান্য ইন্টারনেট সাইটের উপস্থিতি ইতোপূর্বের তুলনায় কর্মীদের মনঃসংযোগে আরো বেশি বেশি ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এটি কর্মীদের উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করছে। কর্মীদের উপর বোঝা চাপাতে অ্যাপলয়ি তৈরি হয়নি বরং কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণ ও স্বচ্ছতাকে উৎসাহিত করতেই এর জন্ম। আমাদের দেশ থেকে এ রকম প্রথম উদ্যোগ। এটি আন্তর্জাতিক মানে তার নিজস্বতা নিয়ে আবির্ভূত হয়ে হাবস্টাফ (ঐঁনংঃধভভ) বা টাইমডক্টর (ঞরসবফড়পঃড়ৎ) এর মতো আন্তর্জাতিক সফটওয়্যারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে পারবে। আমরা চাই, অ্যাপলয়ি হাজার হাজার কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

অ্যাপলয়ি প্রিমিয়াম সফটওয়্যারের কিছু ফিচার

টাইম ট্র্যাকিং : টাইম ট্র্যাকিং ফিচার ব্যবহার করে কর্মীদের সময় কিভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করা যাবে। কোনো প্রোজেক্টে কত সময় যাচ্ছে, কাজ প্ল্যান করা, প্রোজেক্ট ও টাস্ক ম্যানেজমেন্ট, শিডিউল করে দেয়া, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি সম্পন্ন করা যাবে। ম্যানেজাররা সহজেই অনলাইনে কর্মীদের কোনো প্রকল্পে নিয়োগ করতে পারবেন। প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী পরিবর্তন যোগ্য শক্তিশালী শিডিউলিং তৈরি করা, ছুটির দিনের হিসাব রাখা এবং কর্মী অনুপস্থিতি ব্যবস্থাপনার সুবিধা দেয়।

কর্মী মনিটরিং : এই ফিচারটি সম্পূর্ণ অপশনাল। মূলত এ ফিচারগুলো একটি স্বচ্ছ ও প্রোডাক্টইভ প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সহায়তা করবে। কর্মীদের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নয়।

অন্যান্য : কি-বোর্ড ও মাউস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাপলয়ি কর্মীদের এক্টিভিটি পরিমাপ করে ও দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি দশ মিনিটে একটি স্ক্রিনশট নেয়। অ্যাপলয়ি কর্মীদের কাজের ধারা বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যানগত তথ্য দেখায়। ফলে বিভিন্ন ডাটা থেকে এনালাইসিস করে একজন ম্যানেজার বা উদ্যোক্তা সহজে বুঝতে পারবেন তার কোম্পানির কর্মীরা সময়ের সঠিক ব্যবহার করছে কিনা। আছে অ্যাপলয়ির জিপিএস ট্র্যাকিং ফিচার, যা তাদের অবস্থান শনাক্ত করে, ফলে, মাঠকর্মীরা তাদের গন্তব্যে ঠিকমতো যাচ্ছেন কিনা তা মনিটর করা যায়।

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj