চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করুন

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০

প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে এখন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ছে। এখন আর ধীরগতিতে এগোনোর কোনো সুযোগ নেই। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে সরকার রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালকে প্রস্তুত করেছে। তবে আক্রান্তদের অধিকাংশেরই চিকিৎসা হচ্ছে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। ওই দুই হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ আছে চিকিৎসা নেয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের। এই সংকটে এমন অভিযোগ আমরা আশা করি না। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, প্রস্তুতিতে নানা দুর্বলতা আছে। প্রস্তুতির প্রধান ঘাটতি পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। ডায়াগনস্টিকের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব থাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়লে রোগ নির্ণয় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আইসোলেশন ইউনিট মহামারি ঠেকানোর জন্য অনিবার্য একটি বিষয়। কয়টি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট রয়েছে। এখনো সময় আছে, যেসব প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত দূর করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। জানা গেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা ও এর আশপাশের ১২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে সব হাসপাতাল এখনো সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। আবার যেসব হাসপাতাল প্রস্তুত আছে সেখানেও যাচ্ছে না রোগী। আছে ভেন্টিলেশন ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের (আইসিইউ) সংকটও। করোনা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল এবং মিরপুর লালকুঠি মাতৃ ও শিশু হাসপাতালকে নির্বাচন করে সরকার। কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল ছাড়া আর কোনোটিই চিকিৎসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল। তেমনি অভাব আছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও। সামনে করোনা মোকাবিলা একটা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এই চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য যে সক্ষমতা ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা আমাদের সামান্যই রয়েছে। দেখতে পাচ্ছি, রোগী শনাক্ত করা এবং তাদের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা প্রধানত সরকারি উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, দেশে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৬৫৪টি এবং এসব হাসপাতালে মোট শয্যার সংখ্যা ৫১ হাজার ৩১৬টি। আর বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৫ হাজার ৫৫টি, যেখানে মোট শয্যার সংখ্যা ৯০ হাজার ৫৮৭টি। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, দেশে অনুমিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। সেই হিসাবে প্রতি ১ হাজার ১৫৯ জন ব্যক্তির জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা রয়েছে। দেশের চরম সংকটে এসব হাসপাতালের ভূমিকা কী তা প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে বা তত্ত্বাবধানে বেসরকারি চিকিৎসা খাতকে করোনা সংকট মোকাবিলায় যুক্ত করা আশু প্রয়োজন। বেসরকারি খাতও আপাতত ব্যবসা ও মুনাফার ভাবনা স্থগিত রেখে মানবতার স্বার্থে এগিয়ে আসবে- এমনই প্রত্যাশা করছি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj