শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দেশের শ্রমজীবী মানুষ। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সরকার নি¤œ আয়ের কর্মহীন মানুষকে বাঁচাতে আন্তরিক ও মনোযোগী। সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চালু করেছে বিশেষ ওএমএস। ১০ টাকা কেজি ধরে একজন মানুষ একবারে সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন। সপ্তাহে কেনা যাবে একবার। এমন কর্মসূচিতে শঙ্কা থাকে ভুক্তভোগীরা সুফল পাবে কিনা? গণমাধ্যমে কর্মহীনদের সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রকল্পের ত্রাণ বিতরণে প্রতিদিনই নানা অনিয়মের অভিযোগ আসছে। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন থেকে কিছু সংখ্যক মেম্বার ও চেয়ারম্যান ত্রাণের চাল চুরির দায়ে অভিযুক্ত হচ্ছেন। সত্যিই দেশের সংকটকালে দায়িত্বশীলদের এমন আচরণ দুঃখজনক। ৩১ মার্চ গণভবনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোনো রকম দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না।’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বার্তা দেয়ার পরও কিছু জনপ্রতিনিধি এই নির্লজ্জ কাজ থেকে বিরত নেই। তাই যেই দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিরা এই ধরনের কাজ করছে, গরিবের ত্রাণ গায়েব করে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। করোনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এ সময় শ্রমজীবী মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাজারে মোটা চালের দাম বেশ বেড়ে গেছে। বিষয়গুলো বিবেচনা করে সরকার ওএমএস চালু করেছে। সরকার চার দফায় ২২ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ৫৬ হাজার ৫৬৭ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চালও হতদরিদ্রদের দেয়া হচ্ছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী জুন মাস পর্যন্ত চলবে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার ত্রাণ দিলেও অনেকেই তা পাচ্ছেন না। ত্রাণ না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। অনেকে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাতও পাতছেন। আমরা মনে করি, দেশের সংকটকালে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মহামারি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সরকার স্বল্পমূল্যে সরকারিভাবে পণ্য সরবরাহ করতে খোলাবাজারে (ওএমএস) কার্যক্রম আরো বাড়াতে পারে। অনিয়ম রোধে ওএমএস নীতিমালায় বর্ণিত জেলা/বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর কমিটি সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করতে পারে। আমরা মনে করি, সরকার যদি দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের খাবার বিতরণ নিশ্চিত করতে পারে- তাহলে গরিব মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ জবাবদিহিতা না থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারেও সরকারের করণীয় রয়েছে। ত্রাণ বিলির কার্যক্রম তদারকি করতে ৫৩ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তাদের ভূমিকা জোরালোভাবে দেখতে চাই।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj