চিকিৎসকরা মানবিক হোন

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০

সংবিধানে চিকিৎসাসেবাকে একটি মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানকে কতটুকু মানছেন চিকিৎসক সমাজ, তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশে মহাসংকট চলছে। বিশেষ করে চিকিসাসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ আমরা দেখছি। খোদ প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর যেসব চিকিৎসক রোগী দেখা বন্ধ করেছিলেন তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন। বিপরীতে যারা শুরু থেকেই ঝুঁকি নিয়ে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তাদের জন্য প্রণোদনার ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগী এলে চিকিৎসা দেবেন না- এই মানসিকতা কেন? রোগী এলে চিকিৎসা দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা না দিলে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। দেশে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয় চিকিৎসকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে রোগীরা। চিকিৎসকদের অবহেলায় বিভিন্ন জায়গায় মৃত্যুর খবরও এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে নানা দুর্বলতা আছে। প্রস্তুতির প্রধান ঘাটতি পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। ডায়াগনস্টিকের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব থাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়লে রোগ নির্ণয় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আইসোলেশন ইউনিট মহামারি ঠেকানোর জন্য অনিবার্য একটি বিষয়। কয়টি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট রয়েছে। এই বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, দেশে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৬৫৪টি এবং এসব হাসপাতালে মোট শয্যার সংখ্যা ৫১ হাজার ৩১৬টি। আর বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৫ হাজার ৫৫টি, যেখানে মোট শয্যার সংখ্যা ৯০ হাজার ৫৮৭টি। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুমিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। সেই হিসাবে প্রতি ১ হাজার ১৫৯ জন ব্যক্তির জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা রয়েছে। দেশের চরম সংকটে এসব হাসপাতালের ভূমিকা কী তা প্রশ্ন জাগছে আমাদের মনে। চিকিৎসা পেশাটি রাষ্ট্রের অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানের। এটা পেশা হলেও, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন বলে এটি মানবসেবার একটি অংশও বটে। কিন্তু আজকাল এ পেশার চিকিৎসকের আচরণে মানবিকতার বলাই নেই বললে চলে। চিকিৎসকদের মাঝে নীতিনিষ্ঠা, মানবিকতা, সদাচার, কর্তব্যপারায়ণতা- এসব গুণের বেশি জারি হওয়ার কথা। এ দেশের অনেক চিকিৎসক এমনটাই। ডেঙ্গু সমস্যায় গত বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাত-দিন কাজ করে শত শত মানুষের জীবন রক্ষা করে কত না বাহবা পেয়েছিলেন। এ জন্য অবশ্য বেশ কয়েকজন চিকিৎসকে জীবনও দিতে হয়েছে। দেশের এই সংকটে নিশ্চয় আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। রোগীদের প্রতি মানবিক হবেন- এমনটাই প্রত্যাশা রাখছি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj