এই দুর্যোগে শ্রমিক ছাঁটাই অমানবিক

বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০

করোনা ইস্যুতে নতুন করে সংকটে পড়ছে তৈরি পোশাক খাত। করোনার প্রভাবে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে কোনো ধরনের শিল্পকারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই না করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শিল্পমালিকদের নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু এ নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বেশকিছু গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত পাঁচ দিনে ২৪টি কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের ঘটনা অমানবিক। জানা গেছে, সরকারের ঘোষিত ছুটির সময়ে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরাসহ আরো বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটে। আবার অনেক শ্রমিকের জন্য লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ শ্রমিকদের মূল বেতনের অর্ধেক দেয়া হবে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সংকটকালীন সময়ে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এমতাবস্থায় প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার নিয়ে আমরা নয়ছয় দেখতে চাই না। শ্রমিকরা যেন সঠিক সময়ে তাদের বেতন বুঝে নিতে পারেন। সোমবার রাতে বিজেএমইএ-বিকেএমইএর বৈঠকে আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজিএমইএর তথ্যমতে, গত সোমবার পর্র্যন্ত মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে মাত্র ৩০টি পোশাক কারখানা। বাকি কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ১৬ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবে। বিজিএমইএ নিশ্চয় বিষয়টি তদারকি করবে। বাংলাদেশে মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ ভাগের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। সে সুবাদে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা বাংলাদেশের। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গুরুত্বপূর্ণ এ অবদান সত্ত্বেও পোশাক শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। এ খাতের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। এরপরও অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। অনেক প্রতিক‚লতা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রগতির পথে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাকশিল্পের কোনো বিকল্প নেই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশ থেকে যে রেমিট্যান্স আসছে তার অন্যতম খাত হলো গার্মেন্টস শিল্প। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক অর্থ আয় করছে। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে পোশাক রপ্তানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজিএমইএ। এই লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকে উচ্চাভিলাষী বললেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এর জন্য বিদ্যমান অনেক সমস্যা দূর করতে হবে। এই টার্গেট পূরণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিকদের চাকরি নিরাপত্তা। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ আরো উন্নত করতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj