৭২,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা : স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০

দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন চারটিসহ পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় ঘোষিত এই প্রণোদনা জিডিপির ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। দেশের সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোনো রকম দুর্নীতি, অনিয়ম বা অপব্যবহার না করেন সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। সারাবিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এসব প্যাকেজ ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে বলে শেখ হাসিনা বলেন পূর্বে এবং রবিবার ঘোষিত আর্থিক সহায়তার প্যাকেজগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতি আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। প্যাকেজটি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আর্থিক সহায়তা- এই চারটি কার্যক্রম সংবলিত কর্মপরিকল্পনা তিন পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ দরিদ্র ও চরম দরিদ্র। যারা দিন আনে দিন খায়। এদের রক্ষা করতে হবে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়বে বলে প্যাকেজে উল্লেখ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ; ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি; লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ; বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতদের ভাতা কর্মসূচির আওতা থাকবে। বর্তমানে কৃষিপণ্যের বিপণনে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে কৃষিতে যাতে উৎপাদন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য এ খাতে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে বেকারত্ব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও বিশ্ব অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। করোনা ভাইরাস বিশ্বে শুধু এক মহামারি হিসেবেই দেখা দেয়নি, বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও তা এক অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ দিন দিনই বাড়ছে। এই অবস্থায় অর্থনীতির বড় ধরনের বিপর্যয় রোধে প্রায় প্রতিটি দেশ নিজের মতো করে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশও তার ধারাবাহিকতার অংশ। অর্থনীতিবিদরা যথাসময়ে টাকা ছাড় করার তাগাদা দিয়েছেন। তারা বলেন, কারা অর্থ পাওয়ার যোগ্য, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এক্ষেত্রে যাতে অনিয়ম না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এ প্রণোদনা প্যাকেজের সুফল সবাই ভোগ করুক। আমরা কোনো অসততার আশ্রয় দেখতে চাই না। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর কথার যথাযথ বাস্তবায়ন হবে। ঘোষণা অনুযায়ী প্যাকেজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রত্যাশা রাখছি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj