প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওয়েন্ডের খোলা চিঠি

সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০

অন্যপক্ষ প্রতিবেদক

করোনার প্রভাব এখন বিশ^জুড়ে। বড়-মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর এর পড়বে বিরূপ প্রভাব।

করোনার প্রভাবে নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরেছে উইমেন এন্ট্রাপ্রিনিওয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (ওয়েন্ড)। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ড. নাদিয়া বিনতে আমিন প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক খোলা চিঠিতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাঙালি জাতি যখন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সাহসিকতা ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেছে, যখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে উচ্চতর মর্যাদায় আসীন করেছেন তখন চীনের উহান থেকে সৃষ্টি হওয়া ‘করোনা’ নামক এক বৈশ্বিক সংক্রামক এক মহা সংকট হিসেবে আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে।

এ সংকট মোকাবিলায় আপনি এবং আপনার সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞা ইতোমধ্যে প্রদর্শন করেছেন তা এক কথায় নজিরবিহীন। এ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংক্রমণ বিস্তার রোধ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মান উন্নীতকরণের দৃঢ় ও ত্বরিত পদক্ষেপ আপনার বিজ্ঞ নেতৃত্বেরই প্রকাশ। জনসাধারণের সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি ও তৈরিতে আপনি যে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছেন তাও আমাদের উদ্দীপ্ত করেছে। পাশাপাশি এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে যে ঘোষণা আপনি দিয়েছেন তা আবারো প্রমাণ করে আপনি মাদার অফ হিউমিনিটি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনার এই সাহসী ও দৃঢ় প্রত্যয়ী এগিয়ে চলার পথে এ দেশের কোটি কোটি নারী উদ্যোক্তারা অতীতেও যেমন আপনার সঙ্গে ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে- দেশের নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েন্ড এই অঙ্গীকার করছে।

‘ওয়েন্ড’ হচ্ছে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের একটি সংগঠন। আমরা নারী উদ্যোক্তারা আপনার সরকারের সহযোগিতায় ক্ষুদ্র পর্যায় থেকে ব্যবসা করে আসছি। দেশের ৭৩ লাখ কর্মহীন নারীদের আত্মকর্মসংস্থান, দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে অবদান রেখে জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের চেষ্টা করে আসছে।

প্রিয় মমতাময়ী মা! বর্তমান চলমান বাস্তবতায় আমাদের যে আসন্ন সংকট সে বিষয়ে আপনি নিশ্চয়ই অবহিত আছেন। তথাপি কয়েকটি বাস্তবতা নারী উদ্যোক্তারা আপনার হৃদয়ের সংবেদনশীলতাকে আরো গভীরভাবে স্পর্শ করবে সেই প্রত্যাশায় উপস্থাপন করছে।

আমরা একদিকে যেমন কোটি টাকার অর্থ বিনিয়োগ করতে পারি না অন্যদিকে ব্যবসায়িক উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতি হলে তা কাটিয়ে উঠতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পাই না। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসে আমাদের যে ব্যবসায়িক ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা সত্ত্বেও হয়তোবা চলতি পুঁজি থেকে মার্চ মাসের খরচ চালান সম্ভব হবে, কিন্তু ব্যবসার ভরা মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত করোনার নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পারিবারিক দৈনন্দিন খরচ ও ব্যবসার কী অবস্থা হবে আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই ক্রান্তিকালে সরকারের সহযোগিতা না পেলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা ঝরে যাবে।

আজ যারা চাকরি করেন তাদের পাশে আছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। মাস শেষে একটা বেতন চলে আসে। যারা কোম্পানিগুলো চালান তারা নিজেরাই নিজেদের ত্রাণকর্তা। যারা গরিব, দিনমজুর তাদের জন্য আছে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও এলাকার বিত্তশালীদের দান খয়রাত ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের মতো নতুন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা আর কিছু ছোট ব্যবসায়ী যারা কোনো তালিকায় পড়ি না তারা সরকারের সাহায্য ছাড়া বিকল্প আছে বলে আমরা মনে করছি না। মানুষ বাঁচে আশায়, আমরাও চাই বাঁচতে। চাই এই দুর্যোগ থেকে বেরিয়ে আসতে।

আমরা মনে করছি, এই অনাকাক্সিক্ষত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সর্বোচ্চ মহল থেকে আর্থিক সাহায্যসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত হলে আমরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে গুছিয়ে নিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

আমরা করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আপৎকালীন ১ থেকে ২ শতাংশ সুদে সহজ শর্তে ঋণ চাই। এটা যদি এপ্রিল মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় তাহলে নারী উদ্যোক্তারা পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পাবে। এই ক্রান্তিলগ্নে অবশ্যই নারী উদ্যোক্তাদের একটি ফান্ড প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তারা যেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা চালু রাখতে পারেন। তবে আমাদের এখন বাঁচতে হবে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে।

যে দেশের জিডিপিতে ২৫ শতাংশ অবদান আমাদের নারীদের, সরকার নিশ্চয়ই আমাদের আবেদন রাখবেন, যেহেতু সারাদেশে মোট জনসংখ্যার কোটির ওপর লোকদের নিয়ে আমরা কাজ করি এবং তাদের আয়-রোজগার আমাদের ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। আমরা সবাই মিলে এক হই ও সরকারকে নিয়ে আবার দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করি। আমরা বিশ্বাস করি আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মহামন্দা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।

অতএব, আপনার কাছে আকুল আবেদন আমাদের এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে দেশের চলমান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে আপনার সহানুভূতি নারী উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj