বিশেষ ওএমএস চালু : বণ্টনে যেন অনিয়ম না হয়

সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০

গতকাল থেকে চালু হয়েছে বিশেষ ওএমএস। চলমান করোনা দুর্যোগে কর্মহীন ও নি¤œ আয়ের মানুষের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতে সারাদেশে সরকার প্রথমবারের মতো বিশেষ ওএমএস চালু করছে। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। করোনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এ সময় শ্রমজীবী মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাজারে মোটা চালের দাম বেশ বেড়ে গেছে। বিষয়গুলো বিবেচনা করে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। একজন মানুষ একবারে সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন। সপ্তাহে কেনা যাবে একবার। আর চাল কেনার সময় দেখাতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। সপ্তাহে তিন দিন অর্থাৎ রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৫ এপ্রিল রবিবার থেকে আগামী জুন মাস পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। করোনার প্রভাবে সারাদেশ এখন লকডাউন চলছে। জরুরি কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হতে মানা। এমতাবস্থায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নি¤œ আয়ের মানুষ। তাদের ঝুঁকিটা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, বরং তারচেয়ে অনেক বেশি জীবন ধারণের। নি¤œ আয়ের মানুষ এই বৈশ্বিক মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। করোনায় শুধু তারাই নন, যারা চাকরিজীবী নি¤œ মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত সবাই সংকটে আছেন। আমরা মনে করি, দেশের সংকটকালে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মহামারি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সরকার স্বল্পমূল্যে সরকারিভাবে পণ্য সরবরাহ করতে খোলাবাজারে (ওএমএস) কার্যক্রম আরো বাড়াতে পারে। ১০ টাকা কেজি ধরে চাল বিক্রি কর্মসূচি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা প্রতিনিধির উপস্থিতি বা তদারকিতে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ওএমএস নীতিমালায় বর্ণিত জেলা/বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর কমিটি সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করবে। নি¤œ আয়ের মানুষের খাদ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ সময়োপযোগী। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় আপৎকালীন এমন কর্মসূচি এর আগেও বিভিন্ন সময় নেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নকারীদের অনিয়মের কারণে সমালোচিত হয়েছে। দেখার বিষয় এ কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে তদারকি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি যেসব অঞ্চলে নি¤œ আয়ের মানুষ বেশি বসবাস করে যেখানে ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে পারে। যাতে করে তারা কম মূল্যে সহজে নিত্যপণ্য কিনতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী নি¤œ আয়ের মানুষের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান করেছেন। অতীতে আমরা দেখেছি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিংবা বিত্তবানরা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আশা করছি, এবার তার ব্যত্যয় হবে না।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj