সাড়া নেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোর

রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : সমন্বিত প্রচেষ্টায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় এখনো সাড়া দিচ্ছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলো। চিকিৎসকদের চেম্বার ও হাসপাতালের কার্যক্রম প্রায় বন্ধই রেখেছে তারা। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। গত শুক্রবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা স্বীকার করেছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ কার্যক্রমে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাড়া আশানুরূপ নয়। প্রাইভেট হাপসাতালগুলো কাজ কম করছে। ক্লিনিক ও চেম্বারগুলো অনেকাংশে বন্ধ আছে। আমরা সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারছি। আমরা নিজেরাও দেখতে পাচ্ছি। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ সময়ে আপনাদের পিছপা হওয়া যৌক্তিক নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানুষকে সেবা দিন। পরবর্তী সময় যা যা ব্যবস্থা নেয়ার, আমরা কিন্তু সেসব ব্যবস্থা নিতে পিছপা হব না।

গতকাল শনিবার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদারকি করতে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্ব সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল রাজধানীর কমফোর্ট, গ্রিনলাইফ, ল্যাবএইডসহ নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালে এই অভিযান চালান। অভিযান প্রসঙ্গে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, কমফোর্ট হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে ১৫/১৬ জন চিকিৎসক থাকলেও গতকাল ছিলেন মাত্র ৪ জন। এই অবস্থা হলে কীভাবে হবে? সাধারণ রোগীরা কোথায় যাবেন? মানুষ বিনা চিকিৎসায় কি মারা যাবে? আমরা হাসপাতালগুলোর এ চিত্র অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিভাগ ও মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপরিশ করব।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে হুমকি না দিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া উচিত। কারণ করোনা যুদ্ধে তাদের নেতৃত্বেই জয় আসবে। তারা বলছেন, হাসপাতালে সর্দি-জ¦র-কাশি বা করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা ব্যক্তিদেরও বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিসকদের বোঝাতে হবে। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।

নিজের ও রোগীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে চিকিৎসাসেবা দেয়ার পরামর্শ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, নিজেদের ও রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে রোগী দেখার সময় কাউকে সন্দেহ হলে তাকে পরীক্ষার জন্য পরামর্শ দেবেন। সাধারণ হলে ভর্তি করাবেন। ভয়ের কিছু নেই। তবে সতর্ক থাকতে হবে। আমি নিজে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কাজ শেষ করে বিকালে প্রাইভেট চেম্বারে যাই। সেখানে সাধারণ রোগীদের দেখছি। অনেক সিনিয়ররাও এমন করছেন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক মনে করেন, এভাবে হুমকি-ধমকি না দিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া উচিত। কারণ করোনা যুদ্ধে তাদের নেতৃত্বেই জয় আসবে।

হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালের পরিচালক ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনা যুদ্ধ মোকাবিলায় চিকিৎসকরা অগ্রবর্তী সৈনিক। তারা পিছিয়ে পড়লে আমরা হেরে যাব। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের কী দরকার তা পলিসি মেকারদের বলতে ও নিশ্চিত করতে হবে। কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বারডেম, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় তো এক ঘণ্টার জন্যও বন্ধ করেনি।

এনজেন্ডার হেলথ বাংলাদেশের দেশীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. শেখ নাজমুল হুদা ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা প্রতিরোধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন চিকিৎসকরাই। আক্রান্ত দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাও চিকিৎসা সেবাকর্মীদের এই ঝুঁকি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং তারাও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করলে বিপদ বাড়বে।

তবে ভিন্নমত পোষণ করছেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, চীনের উহানে ৪১ শতাংশ করোনা ট্রান্সমিশন হয়েছিল হাসপাতালের মাধ্যমে। আমাদের দেশে যখন একজন রোগী চেম্বারে আসবেন তিনি নিজে এবং চিকিৎসক কেউই জানেন না তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত কিনা। আক্রান্ত কেউ যদি হাসপাতালে আসে তখন তার সংস্পর্শে আসা বস্তুর মাধ্যমে একজন সুস্থ মানুষও সংক্রমিত হতে পারেন। তাছাড়া করোনা আতঙ্কে ভীত হয়ে চেম্বারে রোগীরাও আসছেন না।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj