করোনা ধসে প্রযুক্তিখাতের ১০ শীর্ষ ধনী

রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০

নাজমুল হক ইমন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধস নামাবে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা জানান, সংস্থাটির অনুমান, ২০২০ সালে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি দুই দশমিক নয়ের নিচে থাকবে। বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে গত বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে কম। তবে, এবছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের চেয়েও নিচে নামবে। কিন্তু সেটি কতোটা নামবে এবং কতো সময় পর্যন্ত এর প্রভাব থাকবে সেটি এখন অনুমান করা কঠিন! এদিকে ব্লুæমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচক বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা ইতমধ্যে তাদের সম্মিলিত নিট সম্পদের ১৬ শতাংশ হারিয়েছেন। শেয়ারবাজারে দরপতনের জেরে বিশ্বের সব প্রান্তের এবং সব শিল্পের বিলিয়নেয়ারদের সম্পদই কমেছে। একই ধারাবাহিকতায় বিশ্বজুড়ে কমেছে টেকনোলজি প্রযুক্তি পণ্য গ্যাজেট গিয়ার কিংবা সফটওয়্যারের ব্যবসাও। সেই থাবা পড়েছে প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের ওপর। করোনার কারণে টেক জায়ান্টদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে কে কত সম্পদ হারিয়েছেন এমন ১০ জন ধনী ব্যক্তিকে নিয়েই এবারের ফিচার।

জেফ বেজোস : বর্তমানে সারাবিশ্বেই অনলাইন কেনাকাটা কমে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের ওপরও। ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার নিট সম্পদ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তকমাটি এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের দখলে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর মার্চ পর্যন্ত ৮২৯ কোটি ডলার নিট সম্পদ হারিয়েছেন তিনি। সম্পদের পরিমাণ এপ্রিলে আরো কমবে বলেই ধারণা করছেন অর্থনৈতিক খাত সংশ্লিষ্টরা।

জ্যাক মা : চীনভিত্তিক ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। এ প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার চীনের অন্যতম শীর্ষ ধনী। তার তৈরি আলিবাবা ও আলিএক্সপ্রেস ই কমার্স সাইটের মাধ্যমে সারাবিশ্বে কেনাকাটা কমেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আগে জ্যাক মার নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৭০ কোটি ডলার, কমেছে ১৯৮ কোটি ডলার। সামনে সম্পদের পরিমান আরো কমবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে।

বিল গেটস : টানা কয়েক বছর বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তকমা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগেও এই ব্যক্তির নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। তবে গত কয়েক দিনে তার নিট সম্পদ কমেছে ৬৯৯ কোটি ডলার। বিশ্বজুড়ে নিজেদের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখেছে বৈশ্বিক সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট।

মার্ক জাকারবার্গ : মার্ক জাকারবাগ, সবচেয়ে কম বয়সে বিলিয়নেয়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার, মার্চে যা ৫৮৯ কোটি ডলার কমেছে।

ল্যারি পেজ : বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্ট গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর গুগলের অনুসন্ধান বাড়লেও অর্থ খুইয়েছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে ল্যারি পেজের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার। তবে ভাইরাসটি মহামারী আকার ধারণ করলে তার নিট সম্পদ কমেছে ৪৩৪ কোটি ডলার। এখন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় তার সম্পদ আরো কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সের্গেই ব্রিন : বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্ট গুগলের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন। তিনি ও সের্গেই ব্রিন মিলে গুগল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগেও সের্গেই ব্রিনের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা ভাইরাসটির মহামারী আকার ধারণ করার পর এখন পর্যন্ত কমেছে ৪২২ কোটি ডলার।

ল্যারি এলিসন : মার্কিন কম্পিউটার সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ারদের অন্যতম একজন তিনি।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে ল্যারি এলিসনের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলার, যা গত কয়েক দিনে কমেছে ৪৭৭ কোটি ডলার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় ল্যারি এলিসনের নিট সম্পদ আরো কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুকেশ আম্বানি : ভারতীয় কনগ্লোমারেট রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী তিনি। রিলায়েন্স জিও মুকেশ আম্বানি নিয়ন্ত্রিত ভারতের শীর্ষ সেলফোন অপারেটর। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগেও মুকেশ আম্বানির নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার কোটি ডলার, যা কমেছে ৩৩৫ কোটি ডলার। মুকেশ আম্বানি নিয়ন্ত্রিত রিলায়েন্স জিওর ১০ শতাংশ মালিকানা ক্রয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ফেসবুক ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট।

মাসাওশি সন : জাপানভিত্তিক বহুজাতিক কনগ্লোমারেট সফটব্যাংক গ্রুপ কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাসাওশি সন। করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেও জাপানি এ প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ারের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার, যা ৮৯ কোটি ডলার কমেছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি ঠেকাতে জাপান কার্যক্রম জোরদার করেছে।

শিব নাদার : ভারতভিত্তিক বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচসিএল টেকনোলজিস লিমিটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা শিব নাদার। করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেও ভারতীয় এ প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ারের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার, যা ১০০ কোটি ডলার কমেছে। ভারতজুড়ে তিন সপ্তাহের লকডাউন কর্মসূচি চলছে। এর ফলে শিব নাদারের নিট সম্পদ আরো কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

:: ফোবর্স অবলম্বনে

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj