করোনা ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তা

রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে লকডাউনের আগে-পরে রাজধানীর অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। এমতাবস্থায় রাজধানী অনেকটা ফাঁকা বলা যায়। এই সময়ে অপরাধীরাও তৎপর হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নজর রাখছে বলে দাবি তাদের। এর মধ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে গেছে। জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকায় একটি বাসায় গ্রিল কেটে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত ২২ মার্চ তেজগাঁও থানা এলাকায় একটি বাসায় ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক চোর গ্রেপ্তার করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর একটি মল থেকে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় ৯৩টি চোরাই ল্যাপটপ উদ্ধার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। মোহাম্মদপুরের গত বুধবার রাতে একটি ফার্মেসিতে মুখে মাস্ক পরে রাতের বেলায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা রাজধানীবাসীর মনে শঙ্কা থেকে যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নগরের দোকানপাটে তালাবদ্ধতার কারণে যে কেউ চুরি-ডাকাতি করতে পারে তবে সেই ক্ষেত্রে প্রশাসন সক্রিয় না হলে হারাতে পারেন তাদের রেখে আসা মূল্যবান জিনিসপত্র। ব্যবসায়ীদের দাবি কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় আনতে হবে। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনমানুষের ভিড়ে যেসব অপরাধী প্রচলিত অপরাধ করত; এখন তারা কার্যত বেকার। ফলে এখন তারাও অপরাধের ধরন পাল্টে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘ ছুটিতে কোনো পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলায় যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হতে পারে- সে বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় তাদের প্রস্তুতি রেখেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া বাসিন্দাদের ফাঁকা বাসায় যাতে চুরি-ডাকাতি না ঘটে সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পুলিশের মোবাইল টিম বাড়ানো হয়েছে। ফুট প্যাট্রোলের পাশাপাশি মোটরবাইক টহল এবং ভেহিক্যাল প্যাট্রোলও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গত ২৬ মার্চ থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টারসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় রাজধানী ছেড়েছেন নগরবাসী। নিরাপত্তার কথা ভেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অনেকেই নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সংশ্লিষ্টরা দেশের এই সংকটকালে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় কিংবা আইনশৃঙ্খলার সুষ্ঠুতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সেজন্য পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj