করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসা প্রস্তুতি কতদূর?

শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলো কতটা প্রস্তুত- এমন প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তুতিতে নানা দুর্বলতা আছে। প্রস্তুতির প্রধান ঘাটতি পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। রোগী বাড়লে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের ভাইরাস থেকে রক্ষা করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ডায়াগনস্টিকের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব থাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়লে রোগ নির্ণয় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আইসোলেশন ইউনিট মহামারি ঠেকানোর জন্য অনিবার্য একটি বিষয়। কয়টি হাসপাতালে আইনোলেশন ইউনিট রয়েছে। এখনো সময় আছে, যেসব প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত দূর করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে যখন বাংলাদেশ, তখন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট স্থাপনের কথা বলে আসছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ক্রমাগত সংক্রমণ যখন বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশ ছুঁয়েছে, তখন সরকারি নির্দেশনার কতটা অনুসরণ করছে হাসপাতালগুলো? গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে করোনা চিকিৎসা সেবার প্রস্তুতি নিয়ে নানা অসঙ্গতি। জানা গেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা ও এর আশপাশের ১২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে সব হাসপাতাল এখনো সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। আবার যেসব হাসপাতাল প্রস্তুত আছে সেখানেও যাচ্ছে না রোগী। আছে ভেন্টিলেশন ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের (আইসিইউ) সংকটও। করোনা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল এবং মিরপুর লালকুঠি মাতৃ ও শিশু হাসপাতালকে নির্বাচন করে সরকার। কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল ছাড়া আর কোনোটিই চিকিৎসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল। তেমনি অভাব আছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও। কোনো কোনো হাসপাতাল প্রস্তুত করতে এখনো সময় লাগবে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন। সবকটিতে আইসিইউ সেবা নেই। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে সবকিছু স্বাভাবিক হবে। তবে আশার কথা, ঢাকা মেডিকেল করোনা নির্ণয় সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, দেশে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৬৫৪টি এবং এসব হাসপাতালে মোট শয্যার সংখ্যা ৫১ হাজার ৩১৬টি। আর বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৫ হাজার ৫৫টি, যেখানে মোট শয্যার সংখ্যা ৯০ হাজার ৫৮৭টি। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুমিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। সেই হিসাবে প্রতি ১ হাজার ১৫৯ জন ব্যক্তির জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা রয়েছে। দেশের চরম সংকটে এসব হাসপাতালের ভূমিকা কী তা প্রশ্ন জাগছে আমাদের মনে। এছাড়া করোনা চিকিৎসার অজুহাতে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক রোগীতে ঠাসা থাকত, সেগুলো এখন প্রায় রোগীশূন্য। এমন পরিস্থিতির অবসান জরুরি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj