কোভিড-১৯ পরিসংখ্যানভিত্তিক সাপ্তাহিক পর্যালোচনা

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০

ডা. তাসরিন সুলতানা

গত ২৭ মার্চ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সম্পর্কে পরিসংখ্যানভিত্তিক সাপ্তাহিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি তৈরিতে অবদান রেখেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ হোসেন। ড. হোসেন বলেন, “আমরা এই প্রতিবেদনটিতে সর্বমোট চলমান কেসের একটি রেখা ও রোগমুক্তিলাভের একটি রেখা উপস্থাপন করেছি। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের একযোগে বিশাল জমায়েত রোধ করতে আমাদের এই রেখাটি সমতল করা প্রয়োজন, যার মানে হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এই রোগের সংক্রমণ বন্ধ করতে হবে। এই ‘রেখা সমতল করণ’-এর জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তা আসলেই কার্যকর হচ্ছে কিনা আমরা বুঝতে পারব যখন রোগমুক্তিলাভ ও সর্বমোট চলমান কেসের একটি সুন্দর চিত্র দেখব।”

গবেষণায় দেখা যায় গত ৮ মার্চ ২০২০ প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪ জনকে শনাক্ত করা হয় যাদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু ঘটে। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ৪.৫%, সেখানে বাংলাদেশে ১০.৪% যা প্রায় দ্বিগুণ।

বিদেশ থেকে আগত প্রবাসীদের মাধ্যমেই করোনা ভাইরাস প্রথম বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমিত ৪৮ জনের মধ্যে ১৫ জন প্রায় ৩১ শতাংশ বিদেশ ফেরত। তাদের সংস্পর্শে থাকা পরিবারে ১৫ জন ৩১ শতাংশ সংক্রমিত হয়। তবে বাকি ২৩ শতাংশ কীভাবে সংক্রমিত হয়েছে তা যে কোনো অজানা বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায় রাজধানী ঢাকা রয়েছে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে। ৪৮ জন রোগীর ১৭ জনকে ঢাকাতে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি রোগীর অবস্থান সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। গবেষণা প্রতিবেদনে একটি মানচিত্রে ঢাকা ছাড়াও মাদারীপুর, কক্সবাজার, চুয়াডাঙ্গা ও গাইবান্ধায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সংক্রমণ পরীক্ষা কেন্দ্র ঢাকাভিত্তিক হওয়ায় এবং প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় প্রকাশিত সংক্রমণ সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম হতে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা বেশি। ৪৮ জনের মধ্যে ২৩ জনই পুরুষ। নারী রয়েছেন ১৬ জন আর দুটি শিশু। তবে ১০ জনের লৈঙ্গিক পরিচয় প্রতিবেদনে ‘অজানা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হিসাবে সংক্রমিত যে ৪৮ জনের তথ্য পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশের বয়স ১৯ থেকে ৩৯ বছর। ২৭ শতাংশের বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছর। সংক্রমিতদের মধ্যে প্রায় ২১ শতাংশের বয়স ৬০ বা এরও বেশি। প্রায় ৪ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম। তবে সুস্থতার হার বেশি যাদের বয়স ৪০ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে ৬০ ঊর্ধ্বদের মৃত্যঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। ভবিষ্যতে কোভিড-১৯-এর নতুন কেস পরিচালনার ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীদের সক্ষমতা নির্ধারণ করার বিষয়টি গবেষণাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj