করোনা সংকটে শিক্ষাব্যবস্থা

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাসূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। এক দশক ধরে পূর্বনির্ধারিত শিক্ষাসূচি অনুযায়ীই চলছে শিক্ষাব্যবস্থা। দীর্ঘ এই ক্ষতি কীভাবে পোষানো হবে তার বিশ্লেষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন পর্যন্ত সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার আর কিছু প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পড়াশোনা ছাড়া ক্ষতি পোষানোর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগই নেই। জাতিসংঘের মতে, এত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ আগে কখনো হয়নি। এমনকি দুটি মহাযুদ্ধের সময়ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছিল চীন। আমাদের দেশে প্রথম দফায় গত ১৭-৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আবার দ্বিতীয় দফায় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্ষপঞ্জি অনুসারে রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বেশকিছু ছুটি মিলিয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। এছাড়া এপ্রিল মাসে শবেবরাত, ইস্টার সানডে ও পহেলা বৈশাখের ছুটি রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটি বাদে ৪-২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৪ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। তাই করোনা ভাইরাস রোধে এই ১৪ দিনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যথাসময়ে এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশ শেষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। প্রতি বছর যথাযথভাবে সিলেবাস শেষ করেই নেয়া হয় বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট নেমে এসেছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। আশার কথা, শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম সংসদ টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে দেশের সেরা শিক্ষকদের ক্লাস করতে পারছে। প্রতিষ্ঠানে ক্লাস মিস হলেও পিছিয়ে পড়বে না শিক্ষার্থীরা। প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা আলাদা খাতায় তারিখ অনুযায়ী পাঠদানকারী শিক্ষক প্রদত্ত বাড়ির কাজ সম্পন্ন করবে এবং স্কুল খোলার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে জমা দেবে। এই বাড়ির কাজের ওপর প্রাপ্ত নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করছে তাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। দু-চারটি স্কুল তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যাপারে নির্দেশনা দিলেও বেশিরভাগই নিশ্চুপ রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ভাবতে হবে। আমরা বলব, টিভিতে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগটি ভালো। কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে আশা করি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj