মানুষকে ঘরে রাখা চ্যালেঞ্জ : সহনশীলতার পাশাপাশি কঠোর হতে হবে

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০

করোনা প্রতিরোধে একটি চমৎকার এবং সবার জন্য অবশ্য করণীয় পদ্ধতির নাম সামাজিক দূরত্ব (ঝড়পরধষ উরংঃধহপরহম)। সামাজিক দূরত্ব আসলে কী? সামাজিক দূরত্ব হলো কিছু নীতিমালা, যেগুলো সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। এ ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে ছয় ফুট বা প্রায় দুই মিটারের ব্যবধান বজায় রাখতে হয়। সরকারি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমরা তার কতটুকু মেনে চলছি তাই প্রশ্ন। গত বৃহস্পতিবার থেকে ১০ দিনের (২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রোধে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। বলা হয়, নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বাইরে বের না হন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সাধারণ ছুটি বেড়ে গেছে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। অবশ্যই বিষয়গুলো আমাদের অনুধাবন করতে হবে। প্রথমদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মানুষজন কম বের হলেও ২ দিন ধরে রাজধানীতে মানুষ চলাচল বেড়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের চরমভাবে খেসারত দিতে হতে পারে। গতকালের বিভিন্ন গণমাধ্যম খবরে জানা যায়, নিতান্ত প্রয়োজনে তো বটেই, কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ বেরিয়ে আসছেন ঘর থেকে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বলছেন, পেটের প্রয়োজনে বের না হয়ে উপায় নেই। অতিদরিদ্ররা দলবেঁধে সাহায্যের আশায় বসে পড়ছেন মোড়ে মোড়ে। নানা ছুতায় রাস্তায় ভিড় করছেন তরুণরা। এমনকি কেউ কেউ ঘুরতে বের হয়ে গেছেন সদলবলে। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্র দেখা গেছে শত শত মানুষ। রাজধানীর সড়কগুলোতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চলছে। গ্রামে দলবেঁধে মানুষ চা দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। কিশোর যুবকরা মাঠে ফুটবল খেলছে। এমন চিত্র প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসছে। অবস্থা এমনই মানুষকে ঘরে রাখতে পারাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমজীবী ও প্রান্তিকজনের খাদ্য সহায়তাসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু নিশ্চিতকল্পে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। সরকারের গৃহীত সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের ঘরে রাখতে হলে কিছু সামাজিক কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের সহনশীলতার পাশাপাশি হতে হবে কঠোরও। আর্থিক অবস্থান অনুযায়ী জরিমানাও করা যেতে পারে। যেসব মানুষ গ্রামে ফিরেছেন, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বহু উন্নত-শক্তিশালী দেশ বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় খুব সহজেই বোঝা যায়, এই ভাইরাসের সংক্রমণ কতটা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগে আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব। আমরাও চাই, এই দুর্যোগে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের স্বার্থে সবাই যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখব।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj