চট্টগ্রামে করোনো আতঙ্কের মধ্যে মশার উৎপাত, অতিষ্ঠ নগরবাসী

বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস : মহামারি আকার নেয়া করোনা ভাইরাস আতঙ্কে পুরো বিশ্ব। সংক্রমণ রোধে দেশে চলছে অঘোষিত ‘লকডাউন’। তবে নগরজুড়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘরে থাকতে পারছে না নগরবাসী। মশার চরম উৎপাতে অতিষ্ঠ নগরবাসী মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে, ইলেকট্রিক ব্যাট কিংবা মশানাশক ওষুধ স্প্রে করেও রক্ষা পাচ্ছে না। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে মশক নিধন কার্যক্রম। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

কিটতত্ত্ববিদরা বলছেন, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় নালা-নর্দমায় জমাট হয়ে আছে পানি। সেখানে ডিম ছাড়ছে ‘ফাইলেরিয়া’সহ বিভিন্ন রোগের জীবণুবাহী মশা। বর্ষায় অতি বৃষ্টির ফলে এসব ডিম বা লার্ভা ধ্বংস হয়ে যায়। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি জমাটবদ্ধ হয়ে থাকায় ধ্বংস হয় না। তাই এসময়টাতে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ ছিটানোর ওপর জোর দিতে হবে। চিকিৎসকরা বলছেন, মশার কামড়ে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চর্ম রোগের প্রকোপ অত্যধিক হয়। মশার উৎপাত বাড়ায় গত বছরের মতো এবারো চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে চার হাজারেরও বেশি মানুষ।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার নালা-নর্দমায় মশার লার্ভা এবং পূর্ণাঙ্গ মশা কিলবিল করতে দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি খালের মুখ বন্ধ থাকায় নালা-নর্দমায় পানি স্থির হয়ে আছে। এসব স্থির বা আবদ্ধ পানিতেই জন্মাচ্ছে মশার লার্ভা। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও চলমান নালা-নর্দমার সংস্কার কাজ চলছে ধীরগতিতে। স্থির পানির কারণে বাড়ছে মশার উপদ্রব। নগরীবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। পুরো মশক নিধন কার্যক্রমই যেন স্থবির হয়ে আছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) জানিয়েছে, নালা-নর্দমায় মশার ডিম বা লার্ভা ধ্বংসকারী ‘লার্ভিসাইড’ ছিটানো অব্যাহত রয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, নগরজুড়ে মশার উৎপাতে বাড়িতে থাকা কষ্টকর। সন্ধ্যা হতে না হতেই মশার কামড়ে জনজীবন অস্থির হয়ে পড়ে। বিভিন্ন নালা, নর্দমা, খালগুলো ভরাটের ফলে পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মশার উৎপাত বন্ধ করতে এখনই জোরালো উদ্যোগ নেয়া জরুরি। পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফা ইমরান বলেন, মশার জ্বালায় বাসায় ছুটির দিনগুলো অসহ্য হয়ে উঠছে। মশার অত্যাচারে শান্তিতে থাকা যাচ্ছে না। বর্তমানে এ উপদ্রব আগের চেয়ে হাজার গুণ বেড়েছে। কিন্তু সিটি করপোশেনের লোকজনকে এখানে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখি না।

মশক নিধনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চসিক’কে তিন কোটি টাকা দিয়েছে। গত ২৫ মার্চ ‘মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম’ উপখাত থেকে ১ম-৪র্থ কিস্তি বাবদ এ অর্থ ছাড় করা হয়। অবশ্য এক মাস আগে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ কোটি টাকার অর্থ সহায়তা চেয়েছিল চসিক। মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া বরাদ্দের বাইরেও মশক নিধনে চলতি অর্থবছরে নিজেদের বাজেটে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে চসিক। এর মধ্যে ওষুধ সংগ্রহে তিন কোটি টাকা, ফগার ও স্প্রে মেশিন সংগ্রহে দুই কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে বাকি এক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্র জানায়, মশক নিধনে ‘এডালটিসাইড’ (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী) এবং ‘লার্ভিসাইড’ (ডিম ধ্বংসকারী) নামে দুই ধরনের ওষুধ ছিটানো হয়। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ‘এডালটিসাইড’ এবং প্রায় ৮০ লিটার ‘লার্ভিসাইড’ মজুত আছে চসিকে। তবে নতুন করে পাঁচ হাজার লিটার ‘লার্ভিসাইড’ এবং ২৫ হাজার লিটার ‘এডালটিসাইড’ সংগ্রহে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

চসিকের প্রধান পরিছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর ‘এডালটিসাইড’ ছিটানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় চসিক। এডালটিসাইড ছিটানো হয় ফগার মেশিন দিয়ে। এতে এক ধরনের ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ওষুধ ছিটানোর ফলে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে এবং এতে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে লার্ভিসাইড ছিটানো অব্যাহত আছে। সেটা নালা-নর্দমায় ছিটানো হচ্ছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj