গুজব থেকে সাবধান

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০

দেশের চরম সংকটকালে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে গুজব ছড়ানোর কাজে। চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে গুজব ও ভুয়া খবর। কেউ কেউ রাজধানীতে প্রকাশ্যে লিফলেট বিতরণ করে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনও উদ্যোগী হয়েছে এদের দমনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অভিযোগে রাজধানীতে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, ‘মুসলমানদের জন্য করোনা ভাইরাস কোনো আতঙ্কের কারণ নয়, বরং কাফিরদের প্রতি চরম আজাব-গজব’ এই শিরোনামের লিফলেট বিতরণের সময় গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে এবং মৌচাক থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে লিফলেট ও তাদের বহনকারী একটি পিক-আপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্বরিত তৎপরতায় আমরা স্বস্তিবোধ করছি। এছাড়া করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ফেসবুক আইডি, ইউটিউব চ্যানেল ও অনলাইন নিউজপোর্টাল থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওয়াজের নামে করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘করোনা দ্বারা সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসা এ মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই, তবু বানোয়াট চিকিৎসার খবরে ফেসবুক ছেয়ে যাচ্ছে।’ ভুয়া খবরে বিভ্রান্ত হয়ে অ্যালকোহল, গরম পানি, ভিনেগার ইত্যাদি গিলে নিজেকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারেন যে কেউ। গুজব ও ভুয়া খবরে আক্রান্ত হচ্ছেন শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। এখন বিজ্ঞানের যুগ। এই আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যারা এ ধরনের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় এনে গুজব ছড়ানোর মূল উদ্দেশ্যগুলো চিহ্নিত করতে হবে। গুজব রটিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত এক জামায়াত নেতা, কক্সবাজারের রামুতে গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধমন্দির ও বসতিতে আগুন দেয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রংপুরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা দূর-অতীতের নয়। নিকট-অতীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও এমন অপকর্ম চালিয়েছিল কেউ কেউ। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে গুজব ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে অনেকে ব্যবহার করছে। মানুষের মনস্তাত্তি¡ক বিষয়সমূহকে বিশ্লেষণ করে কীভাবে গুজব ছড়ানোর প্রবৃত্তি থেকে তাকে মুক্ত করা যায় এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। আমাদের দেশেও সেটি হতে পারে। এ ধরনের গবেষণায় কোনো কোনো মনস্তাত্তি¡ক উপাদান মানুষকে গুজবে আকৃষ্ট হতে ও গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে, সে উপাদানগুলো চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। গুজব প্রতিরোধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি জনগণের মাঝে গুজব সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। বড় ভূমিকা রাখতে পারে দেশের মূল স্রোতধারার গণমাধ্যমগুলো। যে কোনো ভুল তথ্যের সন্ধান পেলে প্রকৃত তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে তারাই সবার আগে গুজব মোকাবিলায় জরুরি ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj