নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি বিশেষ নজর প্রয়োজন

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

সারাদেশ এখন লকডাউন অবস্থা। জরুরি কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হতে মানা। এমতাবস্থায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের ঝুঁকিটা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, বরং তার চেয়ে অনেক বেশি জীবন ধারণের। নিম্ন আয়ের মানুষ এই বৈশ্বিক মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখনই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গত দুই-তিন দিনেই ঢাকার ফাঁকা রাস্তায় যাত্রীর অভাবে রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং চালকদের আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। রাজধানীতে দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিকদেরও কোনো কাজ নেই। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। যারা দিন আনে দিন খায়। তার ওপর রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। করোনায় শুধু তারাই নন, যারা চাকরিজীবী নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত সবাই সংকটে আছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছেন, তা হলো- নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভাসানচরে ১ লাখ মানুষের থাকার ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কেউ যেতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ। দেখার বিষয় উদ্যোগগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে তদারকি জোরদার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান করেছেন। অতীতে আমরা দেখেছি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিংবা বিত্তবানরা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার সেভাবে চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এনজিওগুলোরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। আমরা মনে করি, দেশের সংকটকালে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মহামারি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সরকার স্বল্পমূল্যে সরকারিভাবে পণ্য সরবরাহ করতে খোলাবাজারে (ওএমএস) কার্যক্রম বাড়াতে পারে। যেসব অঞ্চলে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি বসবাস করে যেখানে ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে পারে। যাতে করে তারা কম মূল্যে সহজে নিত্যপণ্য কিনতে পারেন। আগামী দুই মাসের জন্য জরুরিভাবে এ কার্যক্রম চালু করা দরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের স্বল্প আয়ের লোকজনের জন্য এ মুহূর্তে কীভাবে সম্পূরক আয়ের ব্যবস্থা করে তাদের সক্রিয় সহযোগিতা করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে অতি দ্রুতগতিতে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা ও পরিষেবা দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj