টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক : উন্নয়ন কাজে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি রোদে ধুলা বৃষ্টিতে কাদাপানি

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে : টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর সদর হয়ে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। সড়কের ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডসহ পৌর এলাকায় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের যন্ত্রপাতি নিয়ে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন এভাবে ফেলে রাখায় রোদে ধুলা আর সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমছে হাঁটু পানি। দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা।

এলেঙ্গা-জামালপুর পর্যন্ত সড়কের ৭৭ কিলোমিটার অংশে প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়েছে গত বছর জানুয়ারি থেকে। কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছর জুনে। পাঁচ ভাগে সড়কের এ কাজ হচ্ছে। এলেঙ্গা থেকে মধুপুর পর্যন্ত তিনটি অংশে কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। শুরু থেকেই ধীরগতির কাজের অভিযোগ রয়েছে এ অংশে। ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড এবং পৌর এলাকায় অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পৌর এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের প্রায় সব ড্রেনের মুখ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং রোধে ধুলায় ডুবে থাকে পুরো এলাকা। হাঁটু পানি ভেঙে সড়ক পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যানবাহনের চাকার মাধ্যমে পথচারীদের গায়ে লাগছে ময়লা পানি।

অন্যদিকে রোদে কাদামাটি শুকিয়ে গাড়ির চাকায় ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে শ^াসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। সড়কে ধুলা রোধে নিয়মিত পানি দেয়ার কথা থাকলেও কাজ বন্ধ থাকায় তা আর হচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশি কাদা ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় গেটের সামনে। বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসা সাধারণ মানুষকে জুতা হাতে নিয়ে উপজেলার ভেতরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ির ফলে এ অংশে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা এবং ধুলায় জনজীবন অতিষ্ঠ। এ স্থান দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচলেরও অনুপযোগী হয়েছে পড়েছে। ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেছি তারা যেন কমপক্ষে অন্তত দুবার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, সড়কটি দিয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। মাত্র তো বৃষ্টি হলো, সামনে আর কী যে অপেক্ষা করছে! বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় মেয়র এবং টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলব।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনসস্ট্র্রাকশনের প্রকৌশলী মাসুদ বলেন, যখনি ধুলা হবে তখনি পানি দিতে হবে। কিন্তু কিছু দিন ধরে আমাদের পানির গাড়ির সমস্যা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিয়ত কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছি। আশা করছি দ্রুতই কাজ শেষ হবে। মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj