চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : সুরক্ষিত নয় রোগী নার্স ও ডাক্তাররা

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

মামুন অর রশিদ, (চিলমারী) কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামের চিলমারীবাসীর একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এখন বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে। চিলমারীর দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের একমাত্র চিকিৎসার ভরসাস্থলটি একেবারেই অপরিচ্ছন্ন। সুরক্ষিত নন রোগী থেকে শুরু করে নার্স, ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সরেজমিন কমপ্লেক্সটিতে গিয়ে ঢুকতেই নাকে ভেসে আসে এক ধরনের উৎকট গন্ধ। দেখা যায়, পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডের হাতে গোনা ১-২ জন রোগী ছাড়া কারো নাকে মাস্ক নেই। ওয়ার্ডগুলোর মেঝে অত্যন্ত অপরিষ্কার। এর চেয়েও বেহাল দশা রোগীদের ব্যবহারের জন্য টয়লেট, বেসিনসহ ওয়াশরুম। পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন উপজেলার সরকারপাড়া গ্রামের আব্দুল গণি (৪৫) ও হাঁপানি রোগী ফুল মিঞা (৭৫), ডাওয়াইটারী গ্রামের গালিব (৩৫), বেপারি বাজারের মামুন মিঞা (৩২), মহিলা ওয়ার্ডের রোগী গোলাম হাবিব ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী শারমিন (২০), ফেইচকার চরের ময়না (৪৫), চড়–য়াপাড়া গ্রামের জনি আক্তার (২৪)সহ প্রায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ওয়ার্ডের মেঝে মাঝেমধ্যে শুধু ঝাড়– দেয়া হয়। বেপারিপাড়ার মামুন মিঞা বলেন, তিনি সাত দিন ধরে পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে তিনি মাত্র দুই দিন স্যাভলন বা অন্য কোনো মেডিসিন দিয়ে ফ্লোর পরিষ্কার করতে দেখেছেন। একই কথা বলছেন অন্যরাও।

তারা কেন মাস্ক ব্যবহার করছেন না জানতে চাইলে সবাই জানান, ডাক্তার বা নার্স তাদের কোনো মাস্ক দেননি এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সে কথাও বলেননি। কারো কারো মাস্ক কেনার টাকাও নাই। রোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী ওয়াশরুমে ঢুকে তাদের অভিযোগের সত্যতা মেলে। বেসিনগুলোতে পানের পিকের লাল রং লেগে গেছে এবং টয়লেটগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে ভেতরে প্রবেশ করাই দায়।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড ইনচার্জ লতিফা খাতুন জানান, শুক্রবার তার অফ ডে। কর্মরত নার্স নিপা রায় ও রুপালী বেগম জানান, সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। রোগীদের হাসপাতাল থেকে মাস্ক সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নাই। তারা নিজের টাকা দিয়ে মাস্ক কিনে ব্যবহার করছেন। অপরদিকে শুক্রবারের দায়িত্বে থাকা সুইপার সুবলা কাগজ-কলমে উপস্থিত থাকলেও সকাল সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনো ওয়ার্ড পরিষ্কার করেনি।

এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার আকলিমা খাতুন ইমারজেন্সিতে একা রোগী দেখছিলেন। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মাস্ক আমরা নিজেরাই পাইনি। চিলমারী দরিদ্র এলাকা। সরকারিভাবে রোগীদের মাস্ক দিতে পারলে ভালো হতো। তিনি নিজেকেও সুরক্ষিত মনে করছেন না। তিনি বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি তার নয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল ও ওয়ার্ড পরিষ্কার রাখার দায়িত্বে¡ যারা রয়েছে তাদের অবহেলার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী চিলমারীতে পাওয়া যায়নি। গত ৩-৪ মাস ধরে প্রায় ৩৫ জন মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থান ও বিদেশ থেকে চিলমারীতে এসেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে ৩ মার্চ থেকে চিলমারীতে আসা নয়জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মীরা গিয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। হাসপাতালটিতে ইতোমধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি ডাক্তার ও নার্সদের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে বলেন, চিকিৎসক ও নার্সরাও মানুষ। করোনা ভাইরাসটি ছোঁয়াচে। একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হয়। হাসপাতালটিতে যদিও আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। এমনকি পরীক্ষার সরঞ্জামাদি ও চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী না থাকায় তারা সবাই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj