করোনা ভাইরাস আতঙ্ক : ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০

পরিতোষ দাস, মদন (নেত্রকোনা) থেকে : একদিকে বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে সংশয়, অন্যদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। এই দুই নিয়ে দুশ্চিন্তা আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে মদন উপজেলার হাওরাঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার। এক ফসলি বোরো ধান কেটে গোলায় উঠাতে পারবে কিনা এ নিয়ে তারা অনিশ্চিয়তায় ভুগছেন।

কৃষকের কষ্টার্জিত সোনালি বোরো ফসল শীষ থেকে ধানে রূপান্তরিত হয়েছে। চৈত্র মাসের শেষ দিকেই ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে একাধিক কৃষকরা জানায়। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই সোনালি ফসল কৃষকের ঘরে ওঠার কথা রয়েছে। কিন্তু সেই ফসল ঘরে তোলা নিয়ে সংশয় আর করোনা ভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তা, আতঙ্ক যেন কাটছে না হাওরাঞ্চলের কৃষকদের।

এ অঞ্চলের একাধিক কৃষক জানান, বিগত বছরগুলোতে অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়া ধানের মূল্য কম থাকার কথা মনে করে দুশ্চিন্তায় আছি।

অন্যদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে এ বছর ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাবে না। এছাড়া আমরা নিজেরাও সংঘবদ্ধভাবে ধান কাটতে পারব না করোনা আতঙ্কে। ফলে হাওরের ধান কীভাবে ঘরে উঠবে এ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার বোরো আবাদ করা হয়েছে ১৭ হাজার ২৫০ হেক্টর। উপজেলা তলার হাওরের কৃষক মোহন মিয়া, আল্লাদ মিয়া ও আহম্মদ জানান, করোনা আতঙ্কের কারণে এ বছর ধান কাটার শ্রমিক পাব না। যারা নিয়মিত ধান কেটে দিত এবার তারা আসবে না। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ যদি শুরুতেই পর্যাপ্ত ধান কাটার মেশিন সরবরাহ করে রাখে তাহলে শ্রমিক সংকট কিছুটা দূর হবে।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কৃষক খসরু রুমান, তিয়শ্রী ইউনিয়নের কৃষক শাহাজাহান ও মাঘান ইউনিয়নের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ঘরে ধান তোলার আগ পর্যন্ত দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে হাওরের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে শ্রমিক পাব না। আতঙ্ক চলমান থাকলে ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।

শ্রমজীবী শ্রমিক মদন দক্ষিণপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন, বাঘমারা গ্রামের হছর উদ্দিন, হাসনপুর গ্রামের কালা মিয়া জানান, আমরা বর্তমানে বসে আছি। করোনার ভয়ে বাড়ি থেকে বের হই না। কীভাবে পরিবার চলবে তাও ভেবে পাই না। আমরা বৈশাখ মাসের দিকে তাকিয়ে থাকি। ধান কাটব। বছরের ৮-৯ মাসের রোজগার করব। এবার মনে হয় ধান কাটতে পারব না। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব?

কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, বোরো ধান কাটতে আরো বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। আশা করছি, এর আগেই করোনা ভাইরাস থেকে দেশ রক্ষা পাবে। আর যদি এভাবেই থাকে তাহলে শ্রমিকরা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায়ে রেখে ধান কাটতে হবে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ৫০% পরিশোধের মাধ্যমে ধান কাটার মেশিন দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আমি মনে করি, এতে ধান কাটার শ্রমিকের সমস্যা হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়ালি-উল হাসান বলেন, কৃষকদের ধান ঘরে তোলার স্বার্থেই সরকার ধান কাটার মেশিনের ব্যবস্থা করছে। ধান কাটার সময় আরো কিছুদিন রয়েছে। আশা করি, অচিরেই করোনা ভাইরাস থেকে এ দেশ রক্ষা পাবে। তাই শ্রমিক সংকট হবে না বলে আমি মনে করি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj