করোনায় বিপাকে সাধারণ রোগীরা : সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০

দেশের বেশিরভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনা ভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঠাণ্ডা-সর্দি, জ্বর-কাশির কোনো রোগীকে তারা স্পর্শ করছেন না। সংক্রমিত নয়; কিন্তু জ্বর, সর্দি বা কাশির সমস্যায় ভুগছেন- এমন রোগীকেও চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারীদের এমন আচরণ দুঃখজনক। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে মানুষের মধ্যে ঠাণ্ডা, জ্বর-সর্দি ও কাশির সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে ও হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। একইভাবে দেশের সংকটকালীন সময়ে চিকিৎকদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় আশা করছি আমরা। গতকাল ভোরের কাগজসহ কয়েকটি দৈনিকে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না বলে খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীতে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে কোনো কোনো ডাক্তার জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেবেন না বলেও লিখে রেখেছেন। বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের কারণে জ্বর বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত অনেক রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগী সরকারি হাসপাতালে রেফার করছে। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় আরো মুমূর্ষু হয়ে পড়ছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা চিকিৎসা করছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকার বাইরেও একই চিত্র। চট্টগ্রামে হাসপাতালে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগীরা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল এমনকি প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার-চিকিৎসকরাও করোনার উপসর্গ মনে করে এসব রোগী থেকে দূরে থাকছেন। চমেক হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগী দেখার জন্য পৃথক একটি কক্ষ চালু হয়েছে। কিন্তু জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কক্ষে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশালেও এমন অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে আসছে। তবে আশার কথা, পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের কয়েকটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নতুনভাবে টেলিমেডিসিন ও অনলাইন চিকিৎসাসেবা চালু করেছে। তবে এ আয়োজন প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এছাড়া অনেক রোগী ও তাদের স্বজন এ ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে অবহিত নন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত শনিবার থেকে অনলাইন চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ সেবা নিশ্চিতে পাঁচটি মোবাইল নম্বর ২৪ ঘণ্টার জন্য খোলা থাকছে। এটা সত্য যে, করোনা সংকট মোকাবিলায় সারা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ এখানে ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। এক ভাইরাসের আতঙ্কে স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়া বা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা ঠিক নয়। আমরা মনে করি, সেফটি ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাধারণ রোগীদের সেবায় এগিয়ে আসার ও আন্তরিক আচরণ করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি সরকারকেই অবশ্যই ডাক্তার-নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj