ব্রড-হ্যারির মহানুভবতা

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : ‘দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কীসের’- কথাটা আপনি নিশ্চয়ই বহুবার শুনেছেন, পড়েছেন, হয়তো বলেছেনও। দুঃখ-কষ্টকে জীবনে একবার নয়, প্রতিদিন জয় করেন, জয় করতে জানেন তাদের জীবনে দুঃখ-কষ্ট বেঁচে থাকার মতোই বাস্তব। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায়। যাদের স্বল্প পুঁজির ব্যবসা। এই করোনা ভাইরাসের সময় তাদের কষ্ট কমাতে দারুণ এক উদ্যোগ নিয়েছেন ২ ইংলিশ ক্রিকেটার।

করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক দেশই লকডাউন হয়ে গেছে। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে সেই দিকেই যাচ্ছে। এ কারণে চাকরি হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এই ঘোর দুর্দিনে চাকরি হারালে কী বিপদে পড়তে হয় তা সবাই জানে। সেটা বুঝতে পেরেছেন স্টুয়ার্ট ব্রডও। দুই ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রড ও হ্যারি গার্নির যৌথ মালিকানাধীন দুটি পাব (মদের দোকান) রয়েছে যুক্তরাজ্যে। যার একটিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং খাবারের দোকানে রূপান্তরিত করেছেন তারা।

বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে জনবহুল স্থানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডও তার ব্যতিক্রম নয়। ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে শহরের বারগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ মদ খেতে না এলে বারের কর্মীদের তো চাকরি যাবে। তাদের চাকরি বাঁচিয়ে রাখতে এক ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। ব্রড ও হ্যারি গার্নির যৌথ মালিকানাধীন পাব দুটির একটিকে তারা গ্রাম্য দোকানে রূপান্তর করেছেন, যাতে করে তাদের ফুলটাইম ২০ কর্মীকে বেতন দিতে পারেন। একটি ক্রিকেট ওবেসাইটকে সে গল্পই শোনান গার্নি।

‘আমরা গত ২২ মার্চ এটি শুরু করেছি, যখন প্রধানমন্ত্রী পাবগুলো এড়ানোর জন্য বলেছিলেন। তারপর যখন তিনি পাবগুলো বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ দিলেন, তখন বিশেষ ওই পরিস্থিতি থেকে আমরা তিন-চার দিন এগিয়ে ছিলাম।’

‘যে ভাবনা থেকে আমরা এটা শুরু করেছি তা হলো চাকরি রক্ষা করা। কারণ আমরা জানতাম যে পাবগুলোর ব্যবসা রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে এবং আমাদের এখানে এমন কিছু লোক কাজ করে যারা তাদের লোনের কিস্তি পরিশোধের জন্য আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমরা চেয়েছি উপার্জনের একটি উপায় বের করতে, যাতে আমরা সংকটকালে তাদের বেতন দিতে পারি।’

বর্তমানে তাদের দোকানে বিভিন্ন ধরনের চিপস, পিজ্জা, মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য, বেকারি পণ্য বিক্রি করা হবে। অ্যালকোহল পানীয়ও থাকবে, তবে তা পৌঁছে দেয়া হবে। খেলা না থাকায় ডেলিভারির কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকবে ব্রড নিজেও।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj